কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দুর্গারাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন সরকারকে নিয়ে গুরুতর দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ দায়েরের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিশন গঠন না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
বিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষক ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। একইসঙ্গে তারা কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালকের কার্যালয়েও সরাসরি উপস্থিত হয়ে বিষয়টি জানানো হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক: দরিদ্র তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন,শিক্ষার্থী ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছেন,এসএসসি-২০২৫ পরীক্ষার বেঞ্চ মেরামতের জন্য বরাদ্দ অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করেননি,টিসি ও মূল সনদ প্রদানে অতিরিক্ত অর্থ নিয়েছেন,শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াচ্ছেন,শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন,পিয়নদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করাচ্ছেন,
শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ১১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৭০ জন পাস করেছেন, ৪০ জন অকৃতকার্য হয়েছেন এবং মাত্র দুইজন জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। চলতি বছরের প্রি-টেস্ট পরীক্ষার ফলাফলও শিক্ষকদের আশা অনুযায়ী হয়নি।
বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক ও অফিস সহকারীর অভাবও প্রকট। শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় এটি বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ উপেক্ষিত থাকলে শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ময়নাল হোসেন সরকার বলেন, “আমি অভিযোগের বিষয়টি জানি। তদন্ত হলে যথাযথ জবাব দেব।
কুমিল্লা অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে দেখা হবে।” তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
বর্তমান সরকারের শিক্ষাখাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে এই ধরনের অভিযোগের দ্রুত তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।