নিজস্ব প্রতিবেদন
মোল্লাহাটে তিন বান্ধবীকে শ্লীলতাহানি ও এক তরুণীকে ধর্ষণ
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বেড়াতে এসে তিন তরুণী যে ন্যাক্কারজনক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—ঘটনাটি এলাকায় তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তথ্য বলছে, রাজপাট গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তিন বান্ধবীর ওপর হামলা ঘটে, যার মধ্যে একজন ধর্ষণ এবং দু’জন শ্লীলতাহানির শিকার হন। এর একদিন পর ভুক্তভোগী তরুণীদের একজন মোল্লাহাট থানায় চার যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে এক তরুণী তার দুই বান্ধবীকে নিয়ে রাজপাট গ্রামে ফুফুর বাড়ি বেড়াতে আসেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় তারা গ্রামের ভেতর হাঁটতে বের হন। স্থানীয়ভাবে পরিচিত নাশুখালী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠতেই চার যুবক তাদের ঘিরে ফেলে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যে, পরিচয় জানা নেওয়ার পর যুবকেরা অশিষ্ট আচরণ শুরু করে এবং কুপ্রস্তাব দেয়। তারা রাজি না হওয়ায় হঠাৎ পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। সূত্র জানায়, জোরপূর্বক তিন বান্ধবীকেই শ্লীলতাহানি করা হয়।
এক পর্যায়ে এক তরুণী ছুটে ভবন থেকে নিচে নেমে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে সক্ষম হন। কিন্তু বাকি দুইজনকে মুখ চেপে ধরে ভবন থেকে নিচে নামিয়ে স্থানীয় একটি মৎস্য ঘেরে নিয়ে যায় চার যুবক। সেখানে একটি ঘরে একজনকে ধর্ষণ এবং অন্যজনকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
তথ্য বলছে, মেয়েদের চিৎকার শোনার পর স্থানীয় লোকজন দৌড়ে এসে খোঁজ শুরু করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘেরের ঘর থেকে দুই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। ততক্ষণে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
মোল্লাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফজলুল হক জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনজন তরুণীর ওপর নির্যাতন এবং একজনের ওপর ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে, নির্মাণাধীন ভবনটি কি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপরাধীদের আড্ডাস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল?
ওই এলাকায় নজরদারি ব্যবস্থা এত দুর্বল কেন?
ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজ কাঠামোর ভূমিকা কতটা সক্রিয় ছিল?
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ঘটনাস্থলটি অন্ধকার ও জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় অপরাধীরা সুযোগ পেয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত গ্রেপ্তার ও আদর্শ তদন্ত ছাড়া এ ধরনের ঘটনা রোধ সম্ভব নয়।
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে। তথ্য বলছে, মামলার অগ্রগতি এবং ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহই হবে এই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ ঘটনাটি সমাজে নারীর নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। স্থানীয়দের দাবি—এ ধরনের অপরাধ যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর ও সচেতন হতে হবে।