অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Sep 5, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য, তদন্তেও নেই ব্যবস্থা

বদলগাছীতে ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য, তদন্তেও নেই ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর, মথুরাপুর ও পাহাড়পুর ইউনিয়নের ভূমি অফিসে জমির খাজনা ও নামজারি সংক্রান্ত সেবা পেতে ঘুষ দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন, সরকারি নিয়মে নির্ধারিত খাজনা অফিসে গিয়ে অন্যভাবে দেখানো হয়। পরে টাকা দিলে সেই পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ উঠেছে, এসব কাজে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রাসেল হোসেন ও তাঁর নিয়োগকৃত দালালেরা জড়িত।

মিঠাপুর ইউনিয়নের সুজাউল হোসেন বলেন, তাঁর শ্বশুরের তিন খতিয়ানের ১৫ শতাংশ জমির খাজনা দিতে গেলে প্রথমে প্রায় ৭০ হাজার টাকার রশিদ দেখানো হয়। পরে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা দিলে প্রকৃত রশিদে মাত্র ৫,৮৪২ টাকা দেখানো হয়।

একইভাবে ফাতেমা বেগম বলেন, জমি রেজিস্ট্রির জন্য চেক তুলতে গেলে তাঁর কাছে ২৮ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ২০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি হাতে পান ৫৭১ টাকার সরকারি চেক। তিনি বলেন, “আমি গরিব মানুষ। বাকিটা ফেরত চাইলে তারা বলে, তাই কম নিছি আমরা।”

মথুরাপুর ইউনিয়নের তৌহিদ হোসেনের অভিজ্ঞতাও একই। তাঁর কাছে প্রথমে ৪ লাখ টাকার রশিদ দেখানো হয়। পরে দালালের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা দিলে মাত্র ২ হাজার ২০০ টাকার সরকারি রশিদ পান তিনি।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানা মিঠাপুর ভূমি অফিসে গিয়ে তদন্ত করেন। তবে ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তদন্তকালেও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, “এখানে কিছু টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে। অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর প্রসঙ্গে প্রকল্প দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। উত্তর পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


মিঠাপুর ইউনিয়নের কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, খাজনা দিতে গেলে প্রথমে মৌখিকভাবে বড় অঙ্কের টাকা বলা হয়। পরে ঘুষ দিলে তার চেয়ে কম টাকার সরকারি চেক ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, ঘুষ ছাড়া কোনো সেবাই মিলছে না।

অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রাসেল হোসেন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তথ্য বলছে, সরকারি খাজনার নির্ধারিত অঙ্ক থেকে কমিয়ে রশিদ দেওয়া হলে শুধু সেবাপ্রত্যাশীর ভোগান্তিই বাড়ে না, সরকারের রাজস্বও কমে যায়। স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগ ওঠার পরও কেন এখনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, শুধু তদন্ত নয়—দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে তাঁদের আস্থা ফিরবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশারফ, সম্পাদক হায়দার

1

সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ

2

নোয়াখালী-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী বেলায়েত হোসাইনের সমর্থনে

3

ঝিনাইদহে তরু মুন্সী হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামায়াত নেতা ম

4

বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশনের এজিএম-এর প্রস্তুতি সভা অনু

5

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি ফারজা

6

সিলেটে শপিংমলে লুটপাট নিয়ে পুরোনো ভিডিও দিয়ে বিভ্রান্তি শনাক

7

হবিগঞ্জে ৫৩ কেজি গাঁজাসহ ২ জন আটক

8

আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে ,স

9

ধ্বংস করে নয়, প্রকৃতি রক্ষা করেই উন্নয়ন করতে হবে : পরিবেশ উ

10

অনুমোদনের পরও দিঘলিয়ার সড়ক প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, স্

11

খুলনায় নেশার টাকা না পেয়ে পিতাকে হত্যা:

12

গেঞ্জিতে ফুয়েল কার্ড প্রিন্ট করে আলোচনায় সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়

13

ঢাকা ওয়াসার এমডি নিয়োগ: বিতর্ক, দুর্নীতি ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রক্

14

দুদকের মামলা ও দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও মাহফুজুরকে গুরুত্বপ

15

পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধ

16

দুদকের কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক সম্পদ বিবরণী: কেন আসছে নতুন

17

কুমিল্লায় নিখোঁজ শিশুর গলায় পাথর বাঁধা ম'রদে'হ উ'দ্ধা'র

18

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোটার জালিয়াতি: ইউএনও কামাল হোসেনের নিয়োগে প

19

সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে মন্ত্রণালয়ের তদ

20