এ সময় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে করতে চেয়েছিলাম কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য না হওয়ার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা এখনো এটা মনে করি যে মানুষের দৈনন্দিন যে সেবা ব্যাহত হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ, এনআইডি কার্ড থেকে শুরু করে সব ধরনের দৈনন্দিন সেবার জন্য মানুষ সরকারের ওপর নির্ভরশীল। এগুলো নিরসনের জন্য যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার কাঠামো পুনর্গঠন করা অর্থাৎ নির্বাচন দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখল করা হয়েছে সে কারণে উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভাগুলোকে ভেঙে দিতে হয়েছে। কিন্তু সেই জায়গাগুলোতে যে ‘ভ্যাকেন্সি’ তৈরি হয়েছে সেখানে আমাদের সরকারি অফিসাররা দুই-তিনটা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছে সেক্ষেত্রে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে দিলে জাতীয় সংকট সৃষ্টি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ড পর্যায়ে যদি আমরা ভেঙ্গে দেই তাহলে সেটা পরিচালনা করার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত অফিসার নাই। সেক্ষেত্রে একটি জাতীয় সংকট তৈরি হবে। সেই জায়গা থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙ্গে দেওয়া হয়নি। তবে যারা কট্টর আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদীদের চেয়ারম্যান ছিলেন তারা ৫ আগস্টের পর যথারীতি পালিয়ে গেছে। সেই জায়গাগুলোতে প্যানেল চেয়ারম্যান বা প্রশাসনের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বরাদ্দ কিংবা বাজেট দীর্ঘদিনের একটা প্রসেস ও প্র্যাকটিসের মধ্য দিয়ে চলে এসেছে। এখন প্রতিটি জায়গায় ধরে ধরে সরকার সেই পলিসি থেকে বের হয়ে আসছে।স্থানীয় সরকার থেকে আমরা আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রায় ২৯টা প্রজেক্টের সংশোধন করছি। এটা তো একদিনে বা রাতারাতি পরিবর্তন হওয়া সম্ভব না। সদিচ্ছা থাকলে যত সময় যাবে এগুলো আস্তে আস্তে সমাধান হয়ে আসবে।
এ সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী, পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল ও জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু সাইমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন