খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে অনুমোদিত একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘ সময়েও বাস্তবায়ন শুরু না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মিরেরডাঙ্গা খেয়াঘাট থেকে ব্রক্ষগাতী গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২৫০ মিটার সড়ক উন্নয়নের প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৫ টাকা।
তবে অনুমোদনের কয়েক মাস পার হলেও এখনো মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এটি কাদায় পরিণত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
তাদের অভিযোগ, প্রকল্প অনুমোদনের পর আশার সৃষ্টি হলেও বাস্তবে কোনো কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে। দ্রুত কাজ শুরু না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয়রা দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পুনরায় আবেদন করেছেন।
এলজিইডি সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কিছু প্রশাসনিক ও কারিগরি ধাপ সম্পন্ন করা প্রয়োজন, যা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
তবে দিঘলিয়া এলাকায় বড় পরিসরের অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন ধরে জমি অধিগ্রহণ, নকশা ও প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ভৈরব নদের ওপর দিঘলিয়া–দৌলতপুর সংযোগ সেতু ও সংযোগ সড়ক প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এই সমস্যাগুলো আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর একনেকে অনুমোদিত প্রায় ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকার ওই সেতু প্রকল্পে ২০২০ সালের নভেম্বরে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও অগ্রগতি খুবই সীমিত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাড়ে তিন বছরের বেশি সময়ে কাজের অগ্রগতি প্রায় ১৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেখানে ৩০টি পিয়ারের মধ্যে ১১টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের সংযোগ সড়ক অংশে রেলওয়ের জমি সংক্রান্ত জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে। নকশা রেলওয়ের জমিতে পড়ায় ভূমি হস্তান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ রেললাইন সম্প্রসারণের কথা বিবেচনায় রেখে আপত্তি জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়।
একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু ব্যবসায়ী ও ইজারাদার উচ্ছেদের আশঙ্কায় আপত্তি তুলেছেন বলেও জানা গেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাংকিং জটিলতা, জমি হস্তান্তরের অনিশ্চয়তা এবং নকশা পরিবর্তনের বিষয়কে বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনার জন্য কর্তৃপক্ষ চাপ অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত সমাধান করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট ও জনদুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।