পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় এক শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে উন্নয়নকাজের বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী (সিএ) মো. ইয়াসির আরাফাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক শংকর কুমার মিস্ত্রী ৫৮ পৃষ্ঠার একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, নাজিরপুরের বাবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত বিলের কাগজে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়া হয় প্রধান শিক্ষককে। তিনি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে প্রধান শিক্ষক জানতে পারেন, তাঁর স্বাক্ষর জাল করে পুরো বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি গত ২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যসহ মোট নয়টি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষক শংকর কুমার মিস্ত্রী বলেন, “আমি কোনো বিলের কাগজে স্বাক্ষর করিনি। আমার স্বাক্ষর জাল করে টাকা তোলা হয়েছে। এতে আমার সম্মানহানি হয়েছে এবং আমি এর বিচার চাই।”
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ‘ইশতিয়াক কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি লাইসেন্স ব্যবহার করে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বাগিয়ে নেওয়া হয়। লাইসেন্সটি সিএ ইয়াসির আরাফাতের শ্যালকের নামে হলেও কার্যত তিনিই কাজগুলো পরিচালনা করেন বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সাল থেকে উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইয়াসির আরাফাত। এরপর থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই ঘটনায় দ্বিতীয় অভিযোগকারী মো. মফিজুল ইসলাম দাবি করেন, তাঁর জমি জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। পাশাপাশি স্বল্প বেতনের চাকরি করেও কোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাইদ বলেন, সরকারি চাকরিতে থেকে অনুমতি ছাড়া অন্য পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক এক অডিট কার্যক্রমে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযুক্ত ইয়াসির আরাফাত এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহানাজ তমার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।