স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম
দুর্নীতির অভিযোগ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর মামলা, অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং সাময়িক বরখাস্তের পরও সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়ন পেয়েছেন চট্টগ্রামের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মাহফুজুর রহমান। বিষয়টি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়োগ ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
মাহফুজুর রহমান ফটিকছড়ির নানুপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সরকারি চাকরির ১৬তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারী।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২১ সালের দিকে তার বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, ভুয়া দলিল সৃজন, দাগ পরিবর্তন এবং রাজস্ব আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় চট্টগ্রাম পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রারকে। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে কিছু অনিয়মের বিষয় উঠে এলেও ভুয়া দলিল ও রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়। তবে প্রতিবেদনে তার স্ত্রীর নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের মে মাসে মাহফুজুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। একই সময়ে তাকে সন্দ্বীপ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালে বিভাগীয় মামলার চূড়ান্ত তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি উল্লেখ করে তার বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
তবে এর মধ্যেই ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর দুদক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে।
সম্প্রতি তাকে চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরে পদায়ন দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার খন্দকার জামিলুর রহমান বলেন, বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মাহফুজুর রহমানের বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। তিনি বলেন, দুদকের মামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য দপ্তরে পৌঁছেনি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী। তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকা অবস্থায় এ ধরনের পদায়ন প্রশাসনে ভুল বার্তা দেয় এবং জবাবদিহির প্রশ্ন তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে মাহফুজুর রহমানকে ঘিরে চলমান মামলা, অভিযোগ, বিভাগীয় তদন্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়নের বিষয়টি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
রিপোর্টটি প্রথাগত সংবাদধর্মী কাঠামোয় সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে অভিযোগ, তদন্ত, দুদকের মামলা, প্রশাসনের অবস্থান এবং সুশীল সমাজের প্রতিক্রিয়া আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।