নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) কর্মরত সব পর্যায়ের কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক সম্পত্তির হিসাব দাখিলের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সদ্য অনুমোদিত দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ–২০২৫-এ। বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরে বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এই সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন উঠছে—দুদক কর্মকর্তাদের সম্পদ বিবরণী কেন বাধ্যতামূলক? এটি কি দুর্নীতির অন্তর্গত ঝুঁকি কমাবে, নাকি কাগজে-কলমের আরেক নিয়মেই সীমিত থাকবে?
তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে দুদকের ভেতরকার কিছু কর্মকর্তা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।
সূত্র জানায়, বিভিন্ন মামলার তদন্তে ধীরগতি, অসঙ্গতি ও উচ্চমূল্যের সম্পদ অর্জনের বিষয়টি কয়েকবার নজরে আসে সরকারের উচ্চপর্যায়ের।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ স্বীকার করেন না, প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—
সততার প্রশ্নে যিনি অন্যদের জবাবদিহিতে রাখেন, তাঁর নিজের ঘরটা কতটা স্বচ্ছ—এমন প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছিল।
দুদকের দায়িত্বশীল একটি সূত্র আরও জানায়, কমিশনের অভ্যন্তরীণ মনিটরিং ইউনিট ইতিমধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘অসঙ্গত আয়-সম্পদের’ ইঙ্গিত পেয়েছিল। তবে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় এসব তদন্ত পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।
দুর্নীতি বিষয়ক গবেষক ও সাবেক সরকারি সচিবরা বলছেন—
“সম্পদ বিবরণী বাধ্যতামূলক করা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে বিবরণীর যাচাই-বাছাই, অডিট, এবং মিথ্যা তথ্য দিলে শাস্তির প্রয়োগ—এসব নিশ্চিত না হলে বাস্তবে ফল আসবে না।
বিআইডব্লিউটিএ ও এনবিআরের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা বলেন, আগেও কিছু খাতে সম্পদ বিবরণীর নিয়ম ছিল, কিন্তু সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল “চাপ নেই, অনুসন্ধান নেই” ধাঁচে।
একজন প্রাক্তন দুর্নীতি দমন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন—
“যদি যাচাইয়ের স্বাধীনতা ও তথ্য যাচাইকরণে প্রযুক্তি ব্যবহার না বাড়ানো হয়, তবে এই পদক্ষেপ কাগজে থাকবে। কর্মকর্তারা ফরম পূরণ করবেন, কিন্তু প্রকৃত সম্পদের তথ্য উঠে আসবে না।
দুদকের ভেতরের বাস্তবতা: কর্মকর্তাদের উদ্বেগ, আভ্যন্তরীণ চাপ,অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তাদের দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে—একাংশ বলছেন, স্বচ্ছতার জন্য এটি দরকার ছিল।
অন্য অংশের দাবি, এই নীতিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করা হলে তা “চাপে রাখার উপায়” হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে দুদকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন—
“স্বচ্ছতা আমাদের কাজের মূল শর্ত। যারা জবাবদিহির আওতায় অন্যকে আনেন, তারা নিজেরাই জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারেন না। এই সিদ্ধান্ত জনআস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
---