জয়পুরহাটে রবিদাস পরিবার উচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন, প্রভাবশালীর দখলদারির অভিযোগ
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
মোঃ মোয়ান্নাফ হোসেন শিমুল, জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল এলাকায় দলিত সম্প্রদায়ের সুকিয়া রবিদাস ও শিব রানী রবিদাস পরিবারকে নিজস্ব জমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের অভিযোগ ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে জয়পুরহাট শহরের জিরো পয়েন্টে এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শিপন কুমার রবিদাস, কোষাধ্যক্ষ সুধীর তিরকি, জেলা আহ্বায়ক বাবুল রবিদাস, অ্যাডভোকেট এ এইচ আল মুরাদ, সিপিবি জেলা সভাপতি বদিউজ্জামান বদি, সাম্যবাদী আন্দোলনের ওবায়দুল্লাহ মুসা এবং বাংলাদেশ রবিদাস ফোরামের সভাপতি মুনিলাল রবিদাসসহ ভুক্তভোগী পরিবার উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন—
“স্থানীয় প্রভাবশালী তায়েজ উদ্দীন ভুক্তভোগীদের ত্রাণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রথমে ইউএনও অফিস ও পরে রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে টিপসই নেন। পরে দলিল তৈরি করে আদালতের রায় পান মাত্র ৩ শতক জমির ওপর, অথচ বাস্তবে ভুক্তভোগীদের ৬ শতক জমি দখল করে বাড়িঘর উচ্ছেদ করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এই দখলদারির ঘটনায় প্রশাসন ও স্থানীয় দফতরে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশ্ন উঠছে-
আদালতের রায়ে ৩ শতক জমির উল্লেখ থাকলেও কীভাবে আরও অতিরিক্ত ৩ শতক জমি দখল হলো?
প্রশাসন ও ভূমি অফিস কেন এই অনিয়ম রোধে হস্তক্ষেপ করেনি?
দলিত সম্প্রদায়ের একটি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হলেও কেন এখনো কোনো তদন্ত হয়নি?
মানববন্ধনে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদের পর ভুক্তভোগীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, নেই ন্যায্য ক্ষতিপূরণও। সংগঠনগুলো বলছে, এটি শুধু একটি পরিবারের সমস্যা নয়, বরং সংখ্যালঘু ও দলিত সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে চার দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দাবিগুলো হলো—
১. অবিলম্বে ভুক্তভোগীদের জমি উদ্ধার ও ফেরত দেওয়া।
২. জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
৩. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন।
৪. ভবিষ্যতে দলিত সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ।
আইন ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ভূমি দখলের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যাচাই না করলে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হবে। একইসঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন—এই ধরনের ঘটনাকে অবহেলা করা হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।