অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Sep 21, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

টাঙ্গাইলে কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলায় অংশ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

টাঙ্গাইলে কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলায় অংশ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

নাজমুল আদনান, টাঙ্গাইল

জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের বিকাশ ও মানসিক দৃঢ়তা গঠনের অন্যতম ক্ষেত্র। অথচ টাঙ্গাইলের কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবারের ৫২তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫–এ অংশ নিতে পারছে না। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের অংশগ্রহণে বাধা দিয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির ২৯ জুলাইয়ের সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ৫২তম জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এ বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা/থানা, জেলা, উপ-অঞ্চল ও জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রতিযোগিতায় দেশের সব শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রতিবছর কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কিন্তু এবারই প্রথম তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন,
“ছেলেরা যখন উপজেলায় খেলতে যায়, তখন নানা রকম সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে ফুটবল খেলা উত্তেজনা–পূর্ণ। বারবার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো আমাদের শিক্ষক–শিক্ষিকাদের পক্ষে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এ বছর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছি।”

অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা বলছে, তারা প্রতি বছরের মতো এবারও খেলতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের বাধার কারণে মাঠে নামতে পারছে না। কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়,
“আমরা চাই খেলতে। প্রতি বছর এই টুর্নামেন্টে অংশ নিই। প্রধান শিক্ষক না করতে বলেছেন বলে আমাদের স্বপ্ন ভেঙে গেল।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাইদ বলেন,
“আমরা এ বিষয়ে অবগত নই। জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয়। তারা অবশ্যই এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে।”

শিক্ষাবিদরা বলছেন, নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ থাকলেও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা থেকে বিরত রাখা কোনো সমাধান নয়। বরং নিরাপত্তা জোরদার করা এবং প্রতিযোগিতা পরিচালনার পদ্ধতি উন্নত করা প্রয়োজন।

কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াঙ্গনে অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ করেছে। যেখানে জাতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা, সেখানে একক সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।

 প্রশ্ন উঠছে—শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের খেলাধুলার অধিকার কেড়ে নেওয়া কতটা যৌক্তিক? আর স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষ কি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে?


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিংগাইরে র‌্যাবের অভিযানে ১৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

1

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শান্তিচুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইরানের

2

নুরের ওপর হামলার দায় সরকারকে নিতে হবে: উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

3

বরগুনায় উত্তাল সাগরে দুই ট্রলারডুবি: ১৬ জেলে উদ্ধার, নিখোঁজ

4

বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে সোনারগাঁয়ে প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতি,

5

বিএনপি জনগণের রক্তের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: নাহিদ ইসলাম

6

পূর্বাচল প্লট মামলা: তদন্তে খুরশীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলেনি

7

সোশ্যাল মিডিয়ায় জুয়া: তরুণ প্রজন্মের নীরব শিকার

8

রাজবাড়ীতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে সার ও বীজ বিতরণ

9

গত দুইদিনে ৩৭০৫ টি মামলা করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ

10

এনবিআর চেয়ারম্যান বিদেশে, আগুনে পুড়ল ব্যবসায়ীদের স্বপ্ন

11

‘স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে পদত্যাগ করব’ — আসিফ মাহমুদ সজীব

12

সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে

13

মাদারীপুরে নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি চুরি, ভাঙন আতঙ্কে গ্র

14

সবার আগে বাংলাদেশ” নীতি বাস্তবায়নে কূটনৈতিক পরিসর সম্প্রসারণ

15

জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগে ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত

16

১০ তলা কারখানায় মেশিন আছে, শ্রমিক নেই— উৎপাদন ছাড়াই চলছে এলস

17

প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফর চূড়ান্ত হয়নি, গুজব না ছড়ানোর আহ

18

দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

19

সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা, ফাঁকি দিতে অভাবনীয় জালিয়াতি ওসম

20