নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে কৃষি ভর্তুকি কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক কৃষক নেত্রকোণা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
সূত্র জানায়, উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কল্যানপুর গ্রামের কৃষক সিদ্দিক মিয়া গত ৩ জুলাই সংসদ সদস্যের কাছে দেওয়া আবেদনে অভিযোগ করেন, সরকারি কৃষি ভর্তুকি কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ও বহিরাগত ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়া হয়েছে।
আবেদিতে আরও অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে কৃষি ভর্তুকি কার্ড দেওয়া হয়েছে। এতে অনেক প্রকৃত কৃষক সরকারি এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রয়োজনে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি ও সুবিধাভোগীদের তালিকা সরবরাহ করা হবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য বলছে, লিখিত অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী সিদ্দিক মিয়া বলেন, কৃষি ভর্তুকি কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, অনেক প্রকৃত কৃষক ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির নাম তালিকায় না থাকলেও কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন—এমন ব্যক্তিদের টাকার বিনিময়ে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁর ভাষ্য, তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল মিয়া অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, কৃষকের তালিকা প্রণয়নের কাজে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ ব্যয় করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, নওয়াব আলী নিজেই বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি দলীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তাঁর জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে জানাবেন।
এদিকে, লিখিত আবেদনে কৃষি ভর্তুকি কার্ড বিতরণে সংঘটিত অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত কৃষকদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং প্রশ্ন উঠছে, কৃষি ভর্তুকির সুবিধাভোগী তালিকা প্রণয়নে যথাযথ যাচাই-বাছাই অনুসরণ করা হয়েছিল কি না।