মৌলভীবাজার, ৮ জুলাই: টানা বর্ষণে মৌলভীবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টির কারণে জেলার সবকটি প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ছে। যদিও এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় বুধবারও কোথাও মুষলধারে, কোথাও থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় স্বাভাবিক জনজীবনেও প্রভাব পড়েছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তথ্য বলছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন অলিদ জানান, বৃষ্টির কারণে জেলার মনু, কুশিয়ারা, ধলাই ও জুড়ি নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে।
তিনি জানান, মনু নদের পানি রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২২৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং চাঁদনীঘাট পয়েন্টে ১৪৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং জুড়ি নদীর পানি বিপৎসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাত একসঙ্গে অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ খেটে খাওয়া মানুষ। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। নিম্নাঞ্চলের কৃষকরাও আমন ধানের বীজতলা ও সবজি ক্ষেত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রশ্ন উঠছে, বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকলে নিচু এলাকার বসতবাড়ি ও কৃষিজমি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়বে কি না। যদিও এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের বন্যা বা নদীভাঙনের খবর পাওয়া যায়নি, তবে আবহাওয়া ও নদীর পানির উচ্চতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদ-নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন