বরগুনা, ৮ জুলাই: বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনার তালতলীর ফকিরহাট উপকূলসংলগ্ন সাগরে ১৮ জেলেসহ দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় জেলেরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৮টার দিকে ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, সাগরে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি হওয়ায় প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে পরপর দুটি ট্রলার ডুবে যায়।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা কালাম পাইকার ও শহীদ।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে দুটি ট্রলার ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সাগরে যায়। রাতে আবহাওয়া আকস্মিকভাবে খারাপ হয়ে গেলে একটি ট্রলার ঢেউয়ের আঘাতে ডুবে যায়। ওই ট্রলারের জেলেরা অপর ট্রলারে আশ্রয় নিলেও কিছুক্ষণ পর সেটিও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। পরে সবাই লাইফ জ্যাকেট ও ভাসমান বিভিন্ন বস্তু আঁকড়ে ধরে সাগরে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন।
রাত প্রায় ৩টার দিকে একই এলাকায় মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত আরেকটি ট্রলার ১৬ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে তাদের পটুয়াখালীর মহিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে নিখোঁজ দুই জেলের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলেরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সঙ্গে নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে সমিতির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে সাগর এখনো উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযানে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। প্রশাসন উদ্ধার হওয়া জেলেদের চিকিৎসার বিষয়েও নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে।
তথ্য বলছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় বুধবার দেশের সব সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্রে থাকা জেলেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও অনেক ট্রলার গভীর সাগরে অবস্থান করায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সমুদ্রে থাকা জেলেদের কাছে আবহাওয়ার সতর্কবার্তা যথাসময়ে পৌঁছেছে কি না এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে গভীর সাগরে মাছ ধরার বিষয়ে পর্যাপ্ত তদারকি ছিল কি না। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন