বিশেষ প্রতিনিধি, নাটোর
নাটোর জেলা জজ আদালতে বহিরাগত সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, নথি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও অবৈধ নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে আদালতের বিচারপ্রার্থী, স্থানীয় আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, আদালতের বিভিন্ন সংবেদনশীল কার্যক্রমে বহিরাগতদের প্রভাবের কারণে বিচারপ্রার্থীরা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, আদালতের রেকর্ড রুম ও এজলাস-সংক্রান্ত কাজে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে মামলা-সংক্রান্ত নথি সরবরাহ, ফাইল তদবির এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা। কয়েকজন বিচারপ্রার্থী অভিযোগ করেন, টাকা না দিলে মামলা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে বিলম্ব করা হয় কিংবা প্রয়োজনীয় সেবা পেতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান জেলা জজ এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদুল হাসানের দায়িত্বকালে প্রায় ৩৪ জন কর্মচারীকে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক বেঞ্চ সহকারী মজিবর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের ঘিরে আদালতে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আইনজীবী দাবি করেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করলে মামলার কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না। তারা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদুল হাসান, সাবেক বেঞ্চ সহকারী মজিবর রহমান বা তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী দাবি করা বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের একাংশ প্রধান বিচারপতি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।