বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চাঁদপুর মেঘনা-ধনাগোদা বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার প্রভাবের কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কার্যক্রম কার্যত প্রভাবিত হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই প্রকৌশলী বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারসহ ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট ও গ্রামে সম্পদের মালিক হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি চাঁদপুরের কথিত বালু সন্ত্রাসী সেলিম চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলেও স্থানীয়ভাবে পরিচিত।
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প, যা প্রায় ৬৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বেষ্টিত দেশের অন্যতম বৃহৎ সেচ প্রকল্প, সেখানে প্রায় ৮ কোটি টাকার ফেরোসিমেন্ট লাইনিং কাজ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আমিন এন্ড কোং’ কাজ পেলেও প্রকল্পে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হয়নি।
স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নির্মাণ কাজে বালু ও সিমেন্টের অনুপাত প্রকল্প নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এছাড়া নির্ধারিত দুই স্তরের তারের জালের পরিবর্তে এক স্তর ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।
এছাড়া কাজ চলাকালে পাউবোর কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃতপক্ষে অন্য একটি পক্ষ কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এতে জড়িত থাকতে পারেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, একই প্রকল্প এলাকায় ১৪টি জরুরি (ইমারজেন্সি) কাজের ঠিকাদারি জাহাঙ্গীর হোসেন নিজে নিয়েছেন, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, একই স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জরুরি কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের ঘটনাও ঘটছে।
এ বিষয়ে পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পটির দায় অস্বীকার করেছেন এবং কাজটির অনুমোদন বা বাস্তবায়ন সম্পর্কে তারা অবগত নন বলে জানিয়েছেন। এতে পুরো বিষয়টি নিয়ে আরও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ঘটনা প্রকাশের পর চলতি মাসের ৮ এপ্রিল জাহাঙ্গীর হোসেনকে বদলি করা হলেও সাত দিনের মধ্যেই সেই আদেশ পরিবর্তন করা হয় বলে জানা গেছে। পরে তাকে ঢাকায় ডিজাইন সার্কেল অফিসে বদলি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে টেন্ডার থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।