স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে এবং এই বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাহিনীটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কোস্ট গার্ড দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর উদ্যোগে ‘Guardian at Sea’ মূলমন্ত্রে বাহিনীটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে কোস্ট গার্ড মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, মানব পাচার রোধ, জলদস্যু দমন এবং সুন্দরবন অঞ্চলের বনজ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।
তিনি জানান, গত এক বছরে সুন্দরবন এলাকায় ২৯টি অভিযানে ৩৫ জন ডাকাত গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও কাঠ উদ্ধার করা হয়েছে।
বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সক্ষমতা বাড়াতে সম্প্রতি বহরে তিনটি সার্ভেইলেন্স ড্রোন যুক্ত হয়েছে। জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা-এর অর্থায়নে একটি মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া খুলনা শিপইয়ার্ডের মাধ্যমে বুলেটপ্রুফ হাই-স্পিড বোট সংগ্রহ এবং ভবিষ্যতে হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম সারভেইলেন্স সিস্টেম যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের কোস্ট গার্ডকে পর্যায়ক্রমে ১০ হাজারে উন্নীত করার কাজ চলছে।বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদ, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণ করেন।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক মোঃ জিয়াউল হক এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
এসময় কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা, নাবিক ও অসামরিক সদস্যদের সাহসিকতা ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৪ জনকে বিভিন্ন পদক প্রদান করেন মন্ত্রী।অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম নিয়ে ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। শেষে মন্ত্রী বৃক্ষরোপণ করেন এবং ভিজিটর বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।