অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Apr 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

একাধিক শাস্তির পরও বহাল জসীম উদ্দীন, নতুন করে অনিয়মের অভিযোগ


বরিশাল প্রতিনিধি: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর বরিশাল কার্যালয়ের উপপরিদর্শক জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধারের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অতীতে একাধিক বিভাগীয় শাস্তি পেলেও তিনি এখনও দায়িত্বে বহাল রয়েছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০১৯ সালে তার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়, ২০২১ সালে তিরস্কার দণ্ড দেওয়া হয় এবং ২০২৪ সালে বেতন গ্রেডে নিম্নতর ধাপে অবনমন করা হয়। একই সঙ্গে একটি বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে তাকে চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ করা হলেও শেষ পর্যন্ত মানবিক বিবেচনায় তাকে বরখাস্ত করা হয়নি।

এর আগে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শেরপুর সদর এলাকায় একটি অভিযানে একজন ব্যক্তিকে আটক করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তদন্তে ভুক্তভোগীকে মারধর, অর্থ নেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া এবং সাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয় উঠে আসে। ঘটনাটি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও আলোচিত হয়।

পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বরিশালে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠতে থাকে বলে দাবি স্থানীয়দের। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ, অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদক গোপনে বিক্রি এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করছেন তিনি।

সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে—একটিতে, এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশির সময় মাদক না পেয়ে নগদ অর্থ নেওয়া হয় এবং পরে তাকে ইয়াবা দিয়ে আটক দেখানো হয়। অন্য ঘটনায়, এক ব্যবসায়ীর পরিবারের কাছে ঘুষ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে মাদক দিয়ে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বরিশাল নগরীর কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জসীম উদ্দীন বলেন, সংশ্লিষ্ট অভিযানে তিনি দলের সদস্য ছিলেন এবং বিস্তারিত জানতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা নির্দিষ্ট অভিযোগ বা পূর্বের বিভাগীয় মামলার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কঠোর শাস্তি কার্যকর না হওয়া এবং একই ধরনের অভিযোগ নতুন কর্মস্থলেও অব্যাহত থাকা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান একটি সংবেদনশীল দায়িত্ব। এ ধরনের অভিযানে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলে।
স্থানীয়দের দাবি, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সোনালী আঁশে সাফল্যের হাতছানি নাগরপুরে!

1

৫০ বছর পর রেলের বকেয়া শোধ করলেন শ্রীপুরের মফিজুল ইসলাম

2

সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের অর্থপাচার: দুদকের অনুসন্ধানে চাঞ্চ

3

বগুড়ায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

4

জাল কাগজপত্রে এতিমখানায় নিয়োগ: দুদকের মামলায় ৬ জন আসামি

5

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে নিয়োগ–দুর্নীতির অভিযোগ: ওএসডি হলেন স

6

জয়পুরহাটে জামায়াতের সদস্য সম্মেলন : পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের

7

কামরাঙ্গীরচরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ চক্রের সন্ধান

8

জালিয়াতি তিন পদোন্নতি বিতর্কিত নির্বাহী এখন প্রধান প্রকৌশলী?

9

জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন

10

১৯৯৪ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে হত্যার ঘটনায় মেক্সিকোতে সন

11

নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় তারেক রহমানের নিন্দা, তদন্তের আহ

12

জোরপূর্বক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ

13

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে জুলাই সনদ

14

ইস্টার্ন ব্যাংক চেয়ারম্যান. সন্দেহজনক জাহাজ কেনায় ৮ হাজার কো

15

পদ্মা নদীতে টহলরত নৌ পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসহ ৫ সদস্য গুলিবি

16

বিএনপির নির্বাচন প্রস্তুতি তারেকের ফেরার ওপর নির্ভরশীল নয়: স

17

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে শতকোটির দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকে অনুসন্

18

মোংলায় কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর অভিযানে দুই মাদক ব্য

19

গেঞ্জিতে ফুয়েল কার্ড প্রিন্ট করে আলোচনায় সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়

20