সাতক্ষীরা শহরের মিলবাজার এলাকায় অবস্থিত সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের ইনচার্জ শফিউল বাশারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মিলের সম্পদ বিক্রি, ভাড়া বাবদ অর্থ আদায় এবং সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম চলছে।
প্রায় ৩০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলটি ১৯৮৩ সালে সাতক্ষীরা অঞ্চলের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে বর্তমানে মিলটির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে মিল এলাকায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই সুযোগে সরকারি সম্পদ লুটপাট করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, মিল ইনচার্জ শফিউল বাশারের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই মালামাল বিক্রি, পুকুর থেকে বালু ও মাটি বিক্রি, পুকুরের মাছ বিক্রি, সরকারি গাছ কেটে বিক্রি, শ্রমিকদের মজুরি থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং বহিরাগতদের কাছে ঘর ভাড়া দিয়ে অর্থ নেওয়ার মতো নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তালতলা এলাকার এক মাটি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে মিলের পুকুর থেকে মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করা হয়। সে সময় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মিলের ভেতরে অনিয়ম আরও বেড়ে যায়। সে সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়ক আল ইমরান ও ইমুসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী মিল এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল— টেন্ডার ছাড়া মালামাল বিক্রি, পুকুরের বালু ও মাটি বিক্রি, আলাদা বিদ্যুৎ বিল তৈরি, পুকুরের মাছ বিক্রি এবং সরকারি সম্পদ থেকে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ আদায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সময় শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি শফিউল বাশার। পরে তাকে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য সময়ও দেওয়া হয়।
মিল এলাকায় বসবাসকারী কয়েকজন ভাড়াটিয়া জানান, নিচতলার একটি ফ্ল্যাটের জন্য তাদের প্রতি মাসে তিন হাজার ৬০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ বিল বাবদ চলতি মার্চ মাসে এক হাজার ৮৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিলের দুটি ভবন ও টিনশেডে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি পরিবার বসবাস করছে।
মিলের সিকিউরিটি ইনচার্জ বাদশা আলম বলেন, মিলের মধ্যে ১৭ জন কর্মচারী কাজ করেন। বাসা ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিলের টাকা সংগ্রহ করা হলেও সেই অর্থ কোথায় যায়, সে বিষয়ে তিনি জানেন না। তিনি বলেন, ‘স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, আগে তারা মিলের ভেতরে ঘাস কেটে গবাদিপশুর খাবারের ব্যবস্থা করতেন। কিন্তু এখন ঘাস কাটতেও টাকা দিতে হয়। এছাড়া মিলের ভেতরের ফলজ গাছ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বাংলাদেশ বস্ত্র শিল্প করপোরেশনের (বিটিএমসি) আওতাধীন প্রায় ২৯ দশমিক ৪৭ একর জমির এই মিল এলাকায় সরকারি সম্পদ একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে মিল ইনচার্জ শফিউল বাশার বিষয়টি এড়িয়ে যান।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ওঠার পরও শফিউল বাশারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত তাকে বদলি করে সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।