নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা বা না ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা চলছে, তা অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, এ বিষয়ে অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করার কোনো কারণ নেই। দেশের রাজনীতি বা আসন্ন নির্বাচন—কোনোটিই তারেক রহমানের ফেরার ওপর নির্ভর করছে না।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘তারেক রহমানের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়। কে কখন ফিরবেন, সেটা নিয়ে অতি উৎসাহ দেখানোর প্রয়োজন নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি দেশে না ফিরলেও রাজনীতি বা আগামী নির্বাচন—কোনো ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়বে না। বিএনপি তার নিজস্ব রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির এই নেতা বলেন, দল ক্ষমতায় গেলে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিককে উন্নয়নের মূল ধারায় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান তারেক রহমান। একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। এরপর থেকে পরিবারসহ সেখানেই রয়েছেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকে বিভিন্ন সময় তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি তাঁর মা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে আলোচনা আরও জোরালো হয়।
গত শনিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, সংকটকালে মায়ের কাছে থাকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাঁরও রয়েছে। তবে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ “একক নয়” বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুকূল হলে দেশে ফেরার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমানের পোস্টের পরদিন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম ফেসবুকে লিখেন, তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
তিনি বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে কোনো আপত্তি বা বিধিনিষেধ নেই। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মন্তব্য করুন