অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Dec 26, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

১৫২ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগে,কাস্টমস কমিশনারের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযান


 উদয়ের পথে 

টেলিকম কোম্পানিকে ১৫২ কোটি টাকার সুবিধা: এনবিআরে দুদকের তদন্ত
বাংলাদেশের চারটি শীর্ষ টেলিকম কোম্পানিকে প্রায় ১৫২ কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে কাস্টমস কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও বক্তব্য সংগ্রহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অভিযান চালিয়েছে সংস্থাটির একটি তদন্ত দল।

সোমবার (৩০ জুলাই) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. শাহ আলম শেখের নেতৃত্বে একটি দল এনবিআরে যায় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তবে তদন্তের স্বার্থে দুদকের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


দুদকের মামলার এজাহার অনুযায়ী, গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস ও এয়ারটেল বাংলাদেশ—এই চার প্রতিষ্ঠানের স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর আইনানুগভাবে ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে প্রায় ১৮৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করে।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করায় মূল্য সংযোজন কর আইন অনুযায়ী সুদের অঙ্ক দাঁড়ায় ১৫২ কোটি ৮৯ হাজার ৩৯০ টাকা। এ সুদ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হলেও কয়েক মাস পর ভিন্ন আদেশে ওই অর্থ সম্পূর্ণ মওকুফ করে দেওয়া হয়—যা ক্ষমতার অপব্যবহার বলে অভিযোগ করেছে দুদক।

কত টাকা কার কাছে পাওনা ছিল

"এজাহারে বলা হয়েছে, সুদ বাবদ সরকারের পাওনার মধ্যে—

গ্রামীণফোনের কাছে প্রায় ৫৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা,

বাংলালিংকের কাছে ৫৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা,

রবি আজিয়াটার কাছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা,

এবং এয়ারটেলের কাছে ২০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা পাওনা ছিল।"

এই অর্থ আদায় না হওয়ায় সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি দুদকের।

এর আগে গত ১১ জুন ওয়াহিদা রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। তিনি এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেছেন এবং বর্তমানে পিআরএলে রয়েছেন।

এনবিআর সদস্য হোসেন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১৮ ও ৪০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের টেলিকম খাত দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজস্ব প্রদানকারী খাত। এই খাতে কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অনিয়ম হলে তা সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রভাব ফেলে। ফলে এই তদন্তের দিকে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে।



মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফ্যাসিবাদী গুম, খুন ও লুটপাট নিয়ে ঢাকার ১০ পয়েন্টে কাল প্রাম

1

রূপসায় ২০০ একর জমি দখল করে ইটভাটার ব্যবসা

2

টেকনাফে গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারী গ্রেফতার, মাদকের রুট নস্যা

3

৫৩ বছর দেশ শাসনকারীরা নতুন আশা দেখাতে পারবে না: চরমোনাই পীর

4

আবহাওয়া সতর্কবার্তা

5

চট্টগ্রাম নগরে ভবন নির্মাণে দাপট চাঁদাবাজ চক্রের: বছরে ১৩৮ অ

6

শেরপুর-৩: বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেল বড় ব্যবধানে জয়ী

7

মেঘনা ব্যাংকে নতুন নেতৃত্ব: অভিজ্ঞ ব্যাংকার ছাদেকুর রহমান এএ

8

চুয়াডাঙ্গায় খেজুরের গাছ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত গাছিরা

9

ইন্দোনেশিয়ার স্কুলের মসজিদে বিস্ফোরণে আহত অর্ধশতাধিক

10

কুমিল্লায় নিখোঁজ শিশুর গলায় পাথর বাঁধা ম'রদে'হ উ'দ্ধা'র

11

উদ্ধার ৩ জেলে, অস্ত্র-গুলিসহ দুই বনদস্যু আটক

12

১২ ফুট লম্বা কিং কোবরা উদ্ধার।

13

বিএনপির চারজন, এনসিপি ও জামায়াতের একজন করে

14

সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ নেত্রী শামীমা পারভীন রত্না গ্রেপ্তার

15

কেসিসির প্রশাসক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দায়িত্ব গ্রহণ

16

পঞ্চগড়ে দুদকের গণশুনানি আগামীকাল

17

মাদারীপুরে নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি চুরি, ভাঙন আতঙ্কে গ্র

18

জয়পুরহাটে কৃষকদের দলীয় সভা অনুষ্ঠিত

19

নাগরপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগে মানববন্ধ

20