নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ্য করে শ্রম ও কর্মসংস্থান ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, "ক্ষমতায় যাওয়ার আগে প্রতিশ্রুতি দিবে কর্মসংস্থানের, পরে বলবে ফান্ড নাই।" আজ (সোমবার) সাংবাদিকদের সাথে প্রেস-ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, "আগামীতে ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। ভোটের পর যারা দায়িত্বে আসবেন, তারা আর মাঠের কর্মী থাকবেন না। তখন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিষয়ে সামঞ্জস্য বজায় রেখে কাজ করতে হবে। ফলে আর বলার সুযোগ থাকবে না এটা করবো-ওটা করবো।
তিনি বলেন, দায়িত্বে এলে রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনীতি, বিনিয়োগ– সবকিছুর ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। তাই ক্ষমতায় আসার পর দলগুলো আগের মতো ইচ্ছেমতো স্লোগান দেওয়ার সুযোগ পায় না। “ভোটের আগে বলা হয়—ঘরে ঘরে চাকরি, সবাইকে কাজ দেওয়া হবে, বিনিয়োগ বাড়বে। কিন্তু দায়িত্বে এসে দেখা যায়, বাস্তবে তহবিল সীমিত, সুযোগও সীমিত,” বলেন তিনি।
গত কয়েক দশকের ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরে সাখাওয়াত হোসেন বলেন,
“রাজনীতিতে স্লোগান অনেক হয়। প্রতিদিন বিরিয়ানি খাওয়ানোর মতো প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কিন্তু পরে বলা হয়—ফান্ড না, চা–বিস্কিট খান।”
রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতদ্বৈততা থাকলেও এটাকে বড় রাজনৈতিক সংকট বলা যাবে না। “দলগুলোর ভেতর মতবিরোধ থাকতেই পারে। পলিটিক্যাল কেস তখনই হবে যখন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হবে,” বলেন তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, আগামীতে ক্ষমতায় আসা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বেকারত্ব, বিনিয়োগ সংকট এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠন। দায়িত্বে এলে মাঠ–পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক জটিলতা ও বাস্তবতার মুখোমুখি হন—যা আগে থেকে তারা কল্পনাও করেন না।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলে তার পরিকল্পনাও থাকতে হবে। শুধু স্লোগান দিলে দেশ এগোয় না।