সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য’ দখলে প্রশাসন, নিরাপত্তা জোরদারে নতুন ক্যাম্প
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম এলাকা জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চিহ্নিত করা হচ্ছিল—এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সোমবার ভোর থেকে সেখানে বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের সদস্যরা অংশ নেন।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবীব জানিয়েছেন, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল এলাকাটিতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, “এই বিশাল এলাকায় প্রশাসনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাই ছিল আমাদের মূল ফোকাস, এবং আমরা সেটি করতে পেরেছি।
সোমবার দুপুরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, অভিযানে প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য অংশ নিচ্ছেন। ভোর থেকেই অভিযান শুরু হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে। অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডিআইজি আরও বলেন, অভিযানের পর এলাকাটিতে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও র্যাবের দুটি ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে ভারী অস্ত্র মোতায়েনের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
তথ্য বলছে, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও অনিয়ন্ত্রিত বসতি বিস্তারের কারণে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সক্রিয়তার অভিযোগ ছিল। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন প্রতিবেদনে এলাকাটিকে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ভোরের আলো ফোটার আগেই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুরো জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অবস্থান নেন এবং ধাপে ধাপে অভিযান শুরু করেন। অভিযানের সময় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এদিকে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন জানিয়েছেন, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর এখন এই এলাকায় সরকারের পূর্বঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “সরকার আগে থেকেই এই এলাকাকে ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছিল। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হওয়ায় এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের উপস্থিতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন আগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গম ও অনিয়ন্ত্রিত বসতির কারণে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জ হয়ে ছিল। চলমান এই অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি কতটা স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।