ইসলাম সবুজ
রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় সরকারি পরিত্যক্ত জমি দখল ও দলিল জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম মুর্শিদীর বিরুদ্ধে চার্জফ্রেম শুনানির তারিখ আগামী ২৬ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন আদালত।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯–এর বিচারক শুনানিতে এ নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অভিযুক্ত মুর্শিদী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং শুনানির দিন তাকে জেল হাজত থেকে আদালতে হাজির করা হবে।
অভিযোগপত্র ও মামলার পটভূমি
অভিযোগপত্রে বলা হয়, গুলশান-২-এর সি ই এন (ডি)-২৭ নম্বর প্লটটি সরকারি খাসজমি হলেও সেটি ২০০৯ সালে দলিল জাল করে মুর্শিদী ও তার সহযোগীরা নিজেদের নামে নামজারি করেন। পরবর্তীতে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এ মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
গত ২০ অক্টোবরের শুনানিতে বিচারক বলেন, “সরকারি সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন না হওয়া পর্যন্ত আসামির অবস্থান জেলবন্দী থাকবে।”
এরপর আদালত চার্জফ্রেম শুনানির তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ধার্য করেন।
প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধান ও আর্থিক তদন্ত এদিকে, সালাম মুর্শিদী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুদক পৃথক অনুসন্ধান শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রায় ২২ কোটি টাকা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছেন এবং একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ স্থানান্তর করেছেন।
গ্রেপ্তার ও বর্তমান অবস্থা
গত বছর র্যাব তাকে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ২০২২ সালের একটি হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায়ও তার নাম আসে। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠান।
অনুসন্ধান বলছে মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত চার্জফ্রেম গঠন করবেন। আদালত অভিযুক্তের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবেন। দোষ প্রমাণিত হলে সালাম মুর্শিদীর সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।