ইরান বলছে, গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে নৌ-অবরোধ আরোপ করে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে এবং বিষয়টি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান-কে জানানো হয়েছে।
বাঘেই আরও বলেন, আলোচনা চলাকালেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, যা ইরান ভুলে যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ইরান আপস করবে না এবং মার্কিনিদের সঙ্গে আলোচনা বন্ধ হয়ে গেলেও তারা নিজেদের অবস্থানে অটল থাকবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে চায়, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তার জবাব দেবে।
ইরান জানিয়েছে, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনায় তারা ১০ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করে। ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির বিষয় ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইরানের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির আগে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নৌ তৎপরতা বাড়িয়ে উত্তেজনা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি জাহাজ আটক করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইরান এ ঘটনাকে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
লেবাননের প্রসঙ্গ টেনে বাঘেই বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন-কেও অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে বলে ইরানের অভিযোগ।
এদিকে ইরান আলোচনায় না বসার ইঙ্গিত দিলেও পাকিস্তান নতুন দফার আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং কয়েক দিনব্যাপী বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।
Al Jazeera