অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : May 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খাদ্য অধিদপ্তরের টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ

খাদ্য অধিদপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

তথ্য বলছে, ‘দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে নতুন খাদ্য গুদাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় প্লাস্টিকের ডানেজ (প্যালেট) ক্রয়ের টেন্ডার ঘিরেই এই অভিযোগের সূত্রপাত। অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান ফেয়ার ট্রেড করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কাজী আলাউদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা সীমিত করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্বল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠান অংশ নিলে নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করার কথা থাকলেও একই শর্তে বারবার দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। এতে করে প্রতিবারই সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না।

প্রশ্ন উঠছে—কেন একই শর্তে বারবার টেন্ডার আহ্বান করা হচ্ছে এবং এতে কারা সুবিধা পাচ্ছে?

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতা সীমিত থাকায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে দরপত্র জমা দিচ্ছে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ডানেজ ব্যবহার করা হবে নতুন খাদ্য গুদামে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের কাজে। তবে গুদাম নির্মাণ শেষ হতে এখনও প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে টেন্ডার আহ্বান করাকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, টেন্ডারের শর্তে শুধুমাত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি ক্রয়বিধির পরিপন্থী। একই টেন্ডার তিনবার আহ্বান করা হলেও শর্তে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

কাজী আলাউদ্দিন বলেন, “ম্যানুফ্যাকচারারের পাশাপাশি সাপ্লায়ারদের সুযোগ দিলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং সাশ্রয়ী দামে উন্নতমানের পণ্য পাওয়া সম্ভব হবে।”

গত ২৯ মার্চ প্রতিমন্ত্রীর কাছে দেওয়া চিঠিতে এ বিষয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক সোহেলুর রহমান খান। তিনি বলেন, “এখানে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ নেই। কোনো প্রতিষ্ঠান শর্ত পূরণ করতে না পারলে বা প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারলে এ ধরনের অভিযোগ করে থাকে।”

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা সীমিত হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

এখন দেখার বিষয়—এই অভিযোগ কতটা সত্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কী সিদ্ধান্ত নেয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাট হস্তান্তরে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন ন

1

তেল সংকটে কমেছে ট্রিপ, বন্ধের শঙ্কায় হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক

2

পাইথন কিশোর গ্যাংয়ের ৮-১০ সেকেন্ডে কাজ সেরেছি

3

টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ ইয়াবা জব্দ, মালিক পলাতক

4

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

5

আইজিপির সঙ্গে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

6

সুন্দরবনে অস্ত্র ও গুলিসহ বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর সহযোগী আটক

7

বিটিআরসির ডেটা গতি ও দাম নিয়ে তীব্র অভিযোগ

8

অভিযোগে ঘেরা জনতা ব্যাংকের এমডি মজিবুর রহমান

9

ইরাকে নির্বাচনের পর কী হতে পারে ?

10

টাঙ্গাইলে কুশারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলায় অংশ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ

11

রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন

12

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পূজামণ্ডপে বিজিবি মোতায়েন ও নিরাপত্তা জো

13

মোল্লাহাটে তিন বান্ধবীকে শ্লীলতাহানি ও এক তরুণীকে ধ'র্ষ'ণ

14

৫ মাসে ৪৩ সন্ত্রাসীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন

15

প্রতিপক্ষের হামলায় যুবদল নেতা নিহত

16

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বানভাসি ১২'শ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিত

17

ইস্টার্ন ব্যাংক চেয়ারম্যান. সন্দেহজনক জাহাজ কেনায় ৮ হাজার কো

18

আশুলিয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, নিখোঁজ দুই শিক

19

ইয়াবা পাচারে রেলওয়ে পুলিশের একাধিক সদস্যের নাম উঠেছে

20