পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ওবায়দুল ইসলামকে দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হলেও পিডি দাবি করেছেন, চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেছেন।
সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তিনি মুক্ত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে অবস্থানকালে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী তাঁর কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে তিনি প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী এইচ এম সামিউল অভিযোগ করেন, প্রকল্প পরিচালক মাসে এক-দুইবার এসে নামমাত্র কাজ পরিদর্শন করেন এবং বাকি সময় দেশের বাইরে থাকেন। তাঁর ভাষ্য, প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন বিভিন্ন কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কিছু স্থাপনায় হস্তান্তরের আগেই ত্রুটি দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “প্রকৌশল শাখা ও প্রশাসনকে বারবার বিষয়টি জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদ হিসেবেই শিক্ষার্থীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেছেন।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক ওবায়দুল ইসলাম। অবরুদ্ধ অবস্থায় দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চলমান প্রকল্পের পরিশোধিত বিলের এক শতাংশ চাঁদা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়।
ওবায়দুল ইসলামের দাবি, গত ৭ এপ্রিলও একই দাবিতে ছাত্রদলের নেতারা তাঁর কাছে গিয়েছিলেন।
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা। তিনি বলেন, “পিডি টেন্ডারে অনিয়মের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছেন। আমরা শুধু কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করার কথা বলেছি। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় তিনি দাপ্তরিক কাজে বরিশালে ছিলেন। খবর পেয়ে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দেন।
উপাচার্য জানান, ২০১৭ সালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৪৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনেক কাজ শেষ হলেও বর্তমানে প্রায় ৯১ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজ বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।