কুমিল্লা, ২৯ এপ্রিল ২০২৬: কুমিল্লায় একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও আসামিরা এখনো পলাতক এবং বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র। এতে তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, তার দায়ের করা জি আর মামলা নং ৪১(৮৫০)/২৪ (তারিখ: ১৪ নভেম্বর ২০২৪)-এ নামীয় ও অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত না করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।
তবে বাস্তবে এসব নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেন শুভ্র। তিনি বলেন, পরোয়ানা জারির পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। মামলার সাক্ষীদেরও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
তার অভিযোগ, অপহরণের চেষ্টা, চাঁদা দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, সম্মানহানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাসার সামনে কাফনের কাপড় রেখে ভয় দেখানো, গোপন ক্যামেরা স্থাপনের চেষ্টা এবং যানবাহনের মাধ্যমে নজরদারির মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুভ্র আরও জানান, এসব ঘটনায় তার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে, দস্যুতা সংক্রান্ত আরেকটি মামলা (এফআইআর-৫১, জি আর-৮১২; তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫)-এর আসামিরাও পলাতক রয়েছে এবং এখনো কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে দায়ের করা সি আর মামলা নং-৬১৫/২৬ (তারিখ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬)-এ দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা গ্রহণ করে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ভুক্তভোগী জানান, বিষয়টি তিনি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরেও লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। আইজিপির অভিযোগ সেল থেকে কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদ আনোয়ার বলেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
তবে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।