অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Oct 3, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বাগেরহাটে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত সাংবাদিক

বাগেরহাটে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা হায়াত উদ্দিন: রাজনৈতিক প্রতিশোধ নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা?


স্টাফ রিপোর্টার( বাগেরহাট) 


বাগেরহাটের স্থানীয় দৈনিক ভোরের চেতনা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এবং পৌর বিএনপির সক্রিয় নেতা হায়াত উদ্দিন (৪২) শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং স্থানীয় রাজনীতি ও সাংবাদিকতার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

তথ্য বলছে, পৌর শহরের হাড়িখালি এলাকায় সন্ধ্যার দিকে হায়াত উদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হায়াত উদ্দিন স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিজাম উদ্দিনের ছেলে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সম্প্রতি পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ-উল-হাসান বলেন, সন্ত্রাসীদের হামলায় সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা হায়াত উদ্দিন নিহত হয়েছেন। মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।



তবে এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় বা হত্যার উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হায়াত উদ্দিন সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় তাঁর প্রভাব বাড়ছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ ছিল প্রকাশ্য। আবার সাংবাদিকতার কাজ করতে গিয়ে নানা মহলের অসন্তোষও তাঁর বিরুদ্ধে জমছিল।

প্রশ্ন উঠছে—রাজনৈতিক প্রতিশোধের শিকার হলেন, নাকি সাংবাদিকতার কারণে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হলেন হায়াত উদ্দিন? ব্যক্তিগত শত্রুতাও কি এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রেখেছে?

তথ্য বলছে, বাগেরহাটে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে। দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রায়ই রক্তপাত ও হত্যায় রূপ নিচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।

একজন সিনিয়র সাংবাদিক মন্তব্য করেন—এভাবে দিনের পর দিন সাংবাদিকদের ওপর হামলা হলে স্বাধীনভাবে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।ঘটনার তদন্ত চলছে, তবে হায়াত উদ্দিন হত্যাকাণ্ড স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আইনের শাসন নিয়ে বড় প্রশ্ন রেখে গেছে। একজন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতার দ্বৈত ভূমিকা কি তাঁকে ‘টার্গেট’ বানিয়েছে?

স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি সময়মতো সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে?

এই হত্যার পেছনে কারা, আর কাদের স্বার্থ রক্ষা হলো তাঁর মৃত্যুতে?


সূত্র জানায়, রহস্য উদঘাটনের অপেক্ষায় আছে বাগেরহাটবাসী।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রবীর মিত্রের শেষ দিনগুলো যেমন ছিল

1

ডিপ ফ্রিজে ফাইল, এই বরফ কবে গলবে?

2

ঢাকা আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী বাজার পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশা

3

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সাধারণ ছুটির তারিখ পরিবর্তন

4

রাজউকের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প দুর্নীতি, অকার্যকর যন্ত্রপ

5

টুইঙ্কেল খান্নার বিতর্কিত মন্তব্য: ‘পার্টনার বদলানো এখন নতুন

6

সুন্দরবনে পথ হারিয়ে ভারতে ঢুকে পড়া ৪ মৌয়াল উদ্ধার, এখনো নিখো

7

রোহিঙ্গা সংকটে ইউনূস-অ্যান্ড্রুজ বৈঠক

8

সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে ভারতীয় চোরাচালান পণ্য জব্দ

9

সুটিয়াকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

10

বাগেরহাটে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত সাংবাদিক

11

জাতীয় বাজেটে পানিনিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বড় বিনিয়ো

12

আগে মজুত করা তেল নতুন দামে বিক্রি, দুই পাম্পকে জরিমানা

13

কাজাখস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে কূটনৈতিক মিশন স্থাপনে একম

14

ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে

15

খুলনায় ইজিবাইকের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে তরুণীর মৃত্যু

16

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল ক্লাসরুম উদ্বোধন : ই

17

সংশোধনী ও দুঃখ প্রকাশ

18

গণ সার্বভৌমত্ব না রাষ্ট্র সার্বভৌমত্ব? ফরহাদ মজহারের প্রশ্নে

19

সার সিন্ডিকেট ভাঙার পথে সরকার: বেহাত ২৩৩ কোটি টাকার সাশ্রয়

20