সিভিল এভিয়েশনের টেলিফোন অপারেটর রফিক ও তার ভাই জাফরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) এক টেলিফোন অপারেটর রফিক আহমেদ ও তার ভাই জাফরের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রফিক নিজেকে সিভিল এভিয়েশনের আওতাধীন ১ নম্বর আমবাগান জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে পরিচয় দিতেন। যদিও সরকারি নথি বলছে, তিনি মূলত টেলিফোন অপারেটর পদে কর্মরত ছিলেন। সূত্র জানায়, প্রায় ১৭ বছর তিনি নিয়মবহির্ভূতভাবে ওই মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং সংশ্লিষ্ট সুবিধা ভোগ করেন।
ভুক্তভোগী মাওলানা লোকমান অভিযোগ করেন, ইমামতির চাকরি দেওয়ার কথা বলে রফিক তার কাছে ৮ লাখ টাকা নেন। পরে চাকরি না হওয়ায় চাপের মুখে রফিক আংশিক অর্থ (২ লাখ টাকা) ফেরত দিলেও বাকি টাকার চেক প্রদান করেন। কিন্তু ব্যাংকে গেলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি ভাঙানো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয়।
লোকমানের অভিযোগের পর সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ রফিককে শোকজ নোটিশ দেয়। পরবর্তীতে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বদলি করা হলেও তিনি যোগদান করেননি। এ কারণে গত এপ্রিলে তাকে অবমুক্ত করার আদেশ জারি করা হয়।
অন্যদিকে, রফিকের ভাই জাফরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ‘ডেভেলপার ও এমএলএম ব্যবসা’ নামে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই ব্যবসার ফাঁদে পড়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে।
একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “একজন টেলিফোন অপারেটর কীভাবে বছরের পর বছর ইমাম-খতিবের দায়িত্ব পালন করলেন, সেটি তদন্তসাপেক্ষে বের করা জরুরি। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।”
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করেছেন, রফিক ও জাফর বিভিন্ন সময়ে অর্থ ফেরতের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তারা টাকা পরিশোধ না করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
এ বিষয়ে রফিক আহমেদ ও তার ভাই জাফরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।