খুলনা খাদ্য বিভাগে অস্থিতিশীলতা, ইকবার বাহারের পদত্যাগ
খুলনা খাদ্য বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী সম্প্রতি খুলনা ত্যাগ করেছেন কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই। সূত্র জানায়, তার এই আচরণ বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
তথ্য বলছে, ইকবাল বাহারকে বদলির সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছিল ১৭ আগস্ট, কিন্তু তিনি তা কার্যকর হওয়ার আগেই, ১৩ ও ১৪ আগস্টের তারিখে স্বাক্ষরিত দেখিয়ে একাধিক পদায়ন আদেশ জারি করেন। এই পদায়ন আদেশগুলোর সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, এসব আদেশের মাধ্যমে গরফা বাজারের মো. ইব্রাহিম, নকিপুরের মোল্লা আহমেদ জামান, কেশবপুরের বানেচুর রহমান, খাজুরার মিঠুন চক্রবর্তী, জীবননগরের মুরাদ হোসেন ও ডুমুরিয়ার মো. আমিনুর রহমানকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া, বদলি আদেশাধীন ঝিনাইদহের খাদ্য পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিককেও খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, এসব পদায়ন আদেশ বাস্তবায়নের সময় প্রক্রিয়া ও নীতি কতটুকু অনুসরণ করা হয়েছে। তথ্য বলছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুলনা খাদ্য বিভাগের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) খুলনা জেলার সদস্য মোঃ রিদোয়ান শেখ তামিম গত জুন মাসে খাদ্য বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। সূত্র জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকাস্থ খাদ্য বিভাগের প্রধান কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন।
এছাড়া, খুলনা বিভাগের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংযোগ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও প্রধান উপদেষ্টা, একান্ত সচিব, মহাপরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় কমিশনার খুলনা, দুদক ও খুলনা প্রেসক্লাবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর খুলনা খাদ্য পরিদর্শক সেলিম রেজা লিখিতভাবে চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেন। অভিযোগের কপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, প্রেসক্লাব ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন খুলনা সমন্বয়কদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছেন, এ ধরনের পদায়ন আদেশ ও অভিযোগ যদি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত না করা হয়, তবে খুলনা খাদ্য বিভাগের ভেতরে অস্থিতিশীলতা ও অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।
সম্প্রতি খুলনা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও সচেতন মহল আশা করছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে, যাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় থাকে।