অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 27, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খুলনা খাদ্য বিভাগে অস্থিতিশীলতা, ইকবার বাহারের পদত্যাগ

খুলনা খাদ্য বিভাগে অস্থিতিশীলতা, ইকবার বাহারের পদত্যাগ

খুলনা খাদ্য বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী সম্প্রতি খুলনা ত্যাগ করেছেন কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই। সূত্র জানায়, তার এই আচরণ বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তথ্য বলছে, ইকবাল বাহারকে বদলির সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছিল ১৭ আগস্ট, কিন্তু তিনি তা কার্যকর হওয়ার আগেই, ১৩ ও ১৪ আগস্টের তারিখে স্বাক্ষরিত দেখিয়ে একাধিক পদায়ন আদেশ জারি করেন। এই পদায়ন আদেশগুলোর সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, এসব আদেশের মাধ্যমে গরফা বাজারের মো. ইব্রাহিম, নকিপুরের মোল্লা আহমেদ জামান, কেশবপুরের বানেচুর রহমান, খাজুরার মিঠুন চক্রবর্তী, জীবননগরের মুরাদ হোসেন ও ডুমুরিয়ার মো. আমিনুর রহমানকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া, বদলি আদেশাধীন ঝিনাইদহের খাদ্য পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিককেও খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, এসব পদায়ন আদেশ বাস্তবায়নের সময় প্রক্রিয়া ও নীতি কতটুকু অনুসরণ করা হয়েছে। তথ্য বলছে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুলনা খাদ্য বিভাগের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও ক্ষোভের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) খুলনা জেলার সদস্য মোঃ রিদোয়ান শেখ তামিম গত জুন মাসে খাদ্য বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। সূত্র জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকাস্থ খাদ্য বিভাগের প্রধান কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন।

এছাড়া, খুলনা বিভাগের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংযোগ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও প্রধান উপদেষ্টা, একান্ত সচিব, মহাপরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর, বিভাগীয় কমিশনার খুলনা, দুদক ও খুলনা প্রেসক্লাবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর খুলনা খাদ্য পরিদর্শক সেলিম রেজা লিখিতভাবে চাঞ্চল্যকর তথ্য উন্মোচন করেন। অভিযোগের কপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, প্রেসক্লাব ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন খুলনা সমন্বয়কদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অন্যান্য অভ্যন্তরীণ সূত্র জানাচ্ছেন, এ ধরনের পদায়ন আদেশ ও অভিযোগ যদি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত না করা হয়, তবে খুলনা খাদ্য বিভাগের ভেতরে অস্থিতিশীলতা ও অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।

সম্প্রতি খুলনা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও সচেতন মহল আশা করছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে, যাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় থাকে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হংকংয়ে এশিয়ান টাউনস্কেপ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করলেন রাজউক চেয়ারম্

1

আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব

2

কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটে অসহায়দের মাঝে হুইল চেয়ার ও সেলাই মেশ

3

মোবাইলেই পেশাদার মানের ছবি সম্পাদনা—জেনে নিন সেরা পাঁচটি অ্য

4

উদ্ধার ৩ জেলে, অস্ত্র-গুলিসহ দুই বনদস্যু আটক

5

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

6

ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একজন

7

রাজধানীতে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ হারালেন স্বপন কুমার সরকার

8

সাবেক আইনমন্ত্রীর পিএস ১১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ।

9

মোহাম্মদপুরে ‘হামিদ ভিলা’, ব্যাংকে কোটি টাকার এফডিআর

10

গণপূর্তে প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: প্

11

লন্ডনে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা সিজদা দিয়ে এসেছেন: হাসনাত আব্দুল

12

ওপেনএআইয়ের ‘সোরা’ অ্যাপ এবার অ্যান্ড্রয়েডে।

13

এসএসসি-পরীক্ষায়-ফিরলো-‘সাইলেন্ট-এক্সপেল’,-এটি-কীভাবে-করা-হয়

14

১৮ কোটির সম্পদের প্রমাণ, বৈধ মো. মোমিনুল ইসলাম কেবল ৬ কোটি

15

ঢাকা সচিবালয়ের সচিবের হাত আছে আমার মাথার উপর, জাহাঙ্গীর আলম

16

কুমিল্লায় শিশু সায়মন হত্যা মামলা একজনের মৃত্যুদণ্ড অপরজনের য

17

ধ্বংস করে নয়, প্রকৃতি রক্ষা করেই উন্নয়ন করতে হবে : পরিবেশ উ

18

‘আমি ভয়ও পাচ্ছি, কারণ ইসরায়েলিদের বিশ্বাস করি না’

19

সুন্দরবনে পথ হারিয়ে ভারতে ঢুকে পড়া ৪ মৌয়াল উদ্ধার, এখনো নিখো

20