রাজধানী উত্তরা এলাকায় গৃহকর্মীর পরিচয়ে চেতনানাশক খাইয়ে চুরি ও হত্যার ঘটনায় সিরিজ অপরাধ চক্রের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনায় মূল আসামি বিলকিস বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) জানায়, ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের এক বাসায় গৃহকর্মী নিয়োগের নাম করে অজ্ঞাত এক নারী প্রবেশ করে। পরদিন কাজে যোগ দেওয়ার পর বাসার মালিক কর্মস্থলে গেলে বৃদ্ধা রওশনারা বেগমকে নাস্তার সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করা হয়। এরপর স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা চুরি করে পালিয়ে যায় ওই গৃহকর্মী।
এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে প্রথমে অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ তদন্তেও আসামি শনাক্ত না হওয়ায় আদালত মামলাটি পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয়।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরে বিলকিস বেগমকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, চুরি করা স্বর্ণালঙ্কার গাজীপুরে বিক্রি করা হয়, যার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন। পিবিআইয়ের অভিযানে শহরবানু নামে এক ব্যক্তিকেও শনাক্ত করা হয় এবং একটি জুয়েলারি দোকানের মাধ্যমে স্বর্ণ বিক্রির সত্যতা পাওয়া যায়।
বিলকিস বেগম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় পিবিআই।
পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, “আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”