
২০০৯ সালের আগ পর্যন্ত কেউ চোখে পড়ার মতোভাবে চিনত না চৌধুরী নাফিজ সরাফতকে। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ ব্যাংকে চাকরিজীবী। কিন্তু এরপর মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে তিনি এমন একটি আর্থিক সাম্রাজ্য গড়েছেন—যার পরিমাণ হাজার কোটি টাকার এমন গঠন পাওয়া গেছে যা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিং থেকে পুঁজিবাজার-বিদ্যুৎ—প্রায় সব খাতে বিস্তার পেয়েছে। অভিযোগ উঠছে—এই সাম্রাজ্যের গঠন করেছেন তিনি ও তাঁর নিকট আত্মীয়–পরিজন, নানা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাকে বাদ দিয়ে। তথ্য বলছে—ব্যাংক, পুঁজিবাজার ও মিউচুয়াল ফান্ডের জটিল নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে তিনি অভূতপূর্ব দ্রুতগতিতে উঠে এসেছেন। প্রশ্ন উঠছে—একজন সামান্য কর্মকর্তা থেকে এমন “হিটম্যান” হওয়া কি শুধুই সৌভাগ্যের খেলা, নাকি ঠিক রূপেই গড়ে উঠেছে একটি দুর্নীতির জাল?
অচেনা থেকে কেন্দ্রবিন্দুতে—উত্থানের ইতিবৃত্ত
চৌধুরী নাফিজ সরাফত ১৯৯৯ সালে এক বিদেশি ব্যাংক ‘‘Standard Chartered Bank’’-এ চাকরি শুরু করেন। এরপর অগ্রসর হয়ে স্বল্প বয়সে একজন ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে নাম লেখান—যা তথ্যে বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে, কারণ এক ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় অন্য ব্যাংকের পরিচালক হওয়া জায়েজ কি না, সেটিই প্রশ্ন। তিনি ২০০৮ সালে যোগ দেন ‘‘ICB Islamic Bank’’-এ কনজুমার ব্যাংকিংয়ের প্রধান হিসেবে। তথ্য বলছে—তাঁর ভিজিটিং কার্ডে তখন তিনি নিজেকে পরিচয় দেন “এমডি, কনজুমার ব্যাংকিং, আইসিবি গ্লোবাল হোল্ডিংস” হিসেবে; অথচ “আইসিবি গ্লোবাল হোল্ডিংস” নামে কোনো কার্যকর প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি।
উর্ধ্বতন বিশ্লেষকরা বলছেন—এই সময়টাই ছিল যাকে বলা যায় প্রথম ধাপ ‘প্রভাব বিস্তারের’। এক ব্যাংক কর্মকর্তা নামে শুরু, তারপর দ্রুত কর্পোরেট পরিচালক, আর তারপর আর্থিক খাতের বেশ কয়েকটি উপসর্ম। এতে করে তিনি ওঠেন এক ‘নেটওয়ার্ক প্লেয়ার’ হিসেবে, যিনি রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হন।
রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট: প্রথম হৃদয়স্পর্শ ও বিশ্লেষণ
তথ্য বলছে—চৌধুর্তী নাফিজ সরাফত বিএসইসি-র কাছ থেকে “মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনায় লাইসেন্স” নেন; প্রথমে নিজের নামে আবেদন করেন, পরে কোম্পানি গঠন করেন। অভিযোগ উঠছে—লাইসেন্স নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহায়তা বা নীরব অনুমোদনের কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত হয় ‘‘Bangladesh Res Asset Management’’ (রেস) নামে একটি ফার্ম, যেখানে তাঁর মালিকানা ছিল ২৫ % এবং বাকি অংশ ছিল অন্য অংশীদারের।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী—
“এই ধরনের দ্রুতগতিতে মিউচুয়াল ফান্ড গঠন ও অনুমোদন পাওয়া একটি অনিয়মিত প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়মানুযায়ী যথেষ্ট চেক ও ব্যালান্স প্রয়োগ করেনি।”
(Mitra, কর্পোরেট সাইবার-বিচার বিশ্লেষক)
রেস পরিচালিত তহবিলগুলোর ক্রয়মূল্য এক পর্যায়ে দাঁড়ায় ৩,২০০ কোটি টাকা, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২,৩৫০ কোটি টাকা। তথ্যে দেখা গেছে—বিভিন্ন মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও ম্যাটারিয়াল লিকুইডেশন হয়নি; বরং মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে, যা নিয়ন্ত্রক দায়িত্বপ্রাপ্তদের সতর্ক করেছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক নেটওয়ার্ক: শক্তি ও শিরশ্ছেদ
তথ্য বলছে—নাফিজ সরাফতের রাজনৈতিক সম্পর্ক গভীর ছিল। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina-কে সম্বোধন করতেন ‘ফুপু’ বলে। সাবেক অর্থমন্ত্রী A H M Mustafa Kamal ছিলেন তাঁর ‘চাচা’, আর সাবেক আইজিপি Benazir Ahmed ছিলেন তাঁর ‘কাজিন’ হিসেবে পরিচিত। এমন সামাজিক আত্মীয়তা রাজনৈতিক ও আর্থিক নির্বিঘ্ন প্রভাবের দিক খুলে দিয়েছে।
বিভিন্ন ব্যাংক ও পুঁজিবাজার সংক্রান্ত কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন—“তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করলে ব্যাংকিং লেনদেনে দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যেত”। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে যে, রাষ্ট্রীয় কাজের প্রক্রিয়া ‘স্বাভাবিক’ ছিল না—বরং এক ধরনের প্রভাব ও প্রাধান্যক্রিয়া কার্যকর ছিল।
ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারে লেনদেনের ধাঁচ: তথ্য বলছে
বর্তমানে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে, বাংলাদেশে বাণিজ্য-ভিত্তিক অর্থ পাচার (Trade-Based Money Laundering, TBML) ঝুঁকি ব্যাপক। এক সমীক্ষা বলছে—বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার হয় শুধুই এই খাতের মাধ্যমে।
বিআফআইইউর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ফয়সিক বছরে ২০২৩-২৪ এ সন্দেহভাজন লেনদেন ও কার্যকলাপ রিপোর্টের সংখ্যা ছিল ১৭,৩৪৫ যা পূর্বসালীর তুলনায় ২৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। এই তথ্য বলছে, প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে—কিন্তু লেনদেনের ধরন ও পরিমাণ এখনও নিয়ন্ত্রণে নেই।
চৌধুরী নাফিজ সরাফতের নেটওয়ার্কে ব্যাংক হিসাব, মিউচুয়াল ফান্ড, পুঁজিবাজার-এর লেনদেন একাধিক ধাপ আছে বলেই অভিযোগ উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—“এ ধরনের ধাঁচে লেনদেন হলে ট্রেসিং ও প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হয়। এটি লেয়ারিং ও ইনটিগ্রেশন পর্বের মাঝামাঝি খাত।”
ভুক্তভোগীদের কণ্ঠ: সাংবাদিক ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর অভিজ্ঞতা
এক পুলিশ-ব্যাংকিং অনুসন্ধানকের মতে,“আমরা এক ব্যাংকে দেখা পেয়েছি যে, ওই ব্যক্তি (নাফিজ সরাফত) যেসব প্রতিষ্ঠানে অংশীদার ছিলেন, সেখান থেকে ব্যাংকে সব ধরণের লোকাচ্ছন্ন লেনদেনে প্রশ্ন ছিল কিন্তু যিনি ক্ষমতায় ছিল, তাঁর বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা হয়নি।”
এভাবে ভুক্তভোগীরা বলছেন—ব্যাংক থেকে ঋণ তুলে নেওয়া, মিউচুয়াল ফান্ড থেকে আগাম মুনাফা ভাগ দেয়া, এমনকি নিজেদের কোম্পানিতে শেয়ার ছেড়ে উপার্জন করার সুযোগ ছিল—এগুলো সবাই সাধারণ বিনিয়োগকারী-অভিজ্ঞতায় ওঠে এসেছে।
এক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বলেন, “আমার এক মিউচুয়াল ফান্ডে টাকা ছিল, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোনো লিকুইডেশন হয়নি। জিজ্ঞাসা করলেও বলেছে–দৈবচয়নায় কিছু ইস্যু হয়েছে।”
এই বর্ণনায় দেখা যাচ্ছে বিশাল আর্থিক নেটওয়ার্কের নিচে সাধারণ মানুষের অধিকারহীনতা ও ঝুঁকি।
গভীর লেনদেন ও অনিয়ম-পঙ্খীঢ়তা
তথ্য বলছে—নাফিজ সরাফত সংক্রান্ত ব্যাংকিং হিসাব ও পুঁজিবাজার সংক্রান্ত লেনদেনে অস্বাভাবিকতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—ব্যাংকিং অনুমোদন, ব্যক্তিগত ও বিষয়ভিত্তিক উত্তোলন, সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নগদ প্রবাহের রকেট গতিতে বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—‘হোয়াইট-কলার ক্রাইম’ বা সামাজিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ডে অপরাধ বলেই যাকে ধরে নেওয়া হয়। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১৮-২০২৩ সালের মধ্যে এই ধরনের ফিন্যান্সিয়াল অপরাধ ৪৫% বেড়েছে।
একরকম বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন—
“যখন একজন ব্যাংক কর্মকর্তা-ব্যবসায়ী আসে একাধিক লেনদেনে নাম দিয়ে, তখন ব্যাংকিং শৃঙ্খলা ভেঙে যায়, নিয়ন্ত্রক বিঘ্নিত হয়, আর সাধারণ ম্যাল্টিন পার্টিসিপ্যান্ট–ব্যবহারকারী–নির্বিচারে পড়ে যায়।”
শাসন-প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির প্রভাব ও সামাজিক ক্ষতি
অভিযোগ উঠছে—নিফাজ সরাফতের মত ব্যক্তি শুধু নিজের ব্যবসয়িক অভিলাষ পূরণ করেনি, বরং সম্ভাব্যভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সুরক্ষিক জালের ভিতর দিয়ে সম্পদ গঠন করেছে। তথ্য বলছে—যেখানে পড়েছে,
“বাংলাদেশে প্রায় ৭৫% ট্রেড-ভিত্তিক অর্থ পাচার ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে হয়।”
এই অনিয়মের ফলে শুধু অর্থই ক্ষয় হয়না—অর্থনৈতিক নৈতিকতা, প্রতিষ্ঠানগত বিশ্বাস, বিনিয়োগকারীর আত্মবিশ্বাস, দেশের অর্থনৈতিক সুনাম—সব কিছুর ক্ষতি হয়।
এক এনজিও-অভিযানকারী বলেন, “আমরা দেখেছি—ব্যাংকিং সেক্টর ও পুঁজিবাজারে এমন ব্যক্তিদের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারী অভিভূত হয়, কারণ লেনদেন স্বচ্ছ নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ঠিকঠাক নয়, আর ফলশ্রুতিতে ঝুঁকি বাড়ে।”
তদন্ত ও জবাবদিহি: উঠছে প্রশ্ন, অপেক্ষায় প্রক্রিয়া
তথ্য বলছে—বর্তমানে দুদক একটি তিন সদস্যের তদন্ত দল গঠন করেছে, যাতে নাফিজ সরাফত ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-ব্যাংকিং লেনদেন-পুঁজিবাজার-মূলধন সংগঠনের ওপর নজর রয়েছে। বর্তমানে তদন্তের প্রথম ধাপ চলছে, কিন্তু অনেক প্রশ্ন এখনও ঝুলে রয়েছে।
তদন্ত সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা এখন তথ্য সংগ্রহ করছি—ব্যাংক হিসাব, এফটিআর, মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগ তথ্য, বিদেশি লেনদেন। তবে এটি সময় সাপেক্ষ, কারণ লেনদেন জটিল, ট্রান্স-বর্ডার বিষয় রয়েছে।”
প্রশ্ন উঠছে—কেন এত দীর্ঘ সময় ধরে নজর পড়ছিল না এমন লেনদেন? তথ্য বলছে—বিআফআইইউর প্রতিবেদনে দেখা গেছে ২০২৪ সালের মধ্যে “সন্দেহভাজন লেনদেন ও কার্যকলাপের রিপোর্ট” বেড়েছে ২৩%। বিশ্লেষকরা বলছেন—তদন্ত তো শুরু হয়েছে, কিন্তু জবাবদিহি এবং সম্পদ উদ্ধার কার্যক্রম এখনো পর্যাপ্ত দেখাচ্ছে না। এক পর্যায়ে বলা হয়েছে—বিআফআইইউ ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ১৫,০০০ কোটি টাকার মতো সম্পদ ফেরত নেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া নিচ্ছে।
শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত ও আগামী পথ
চৌধুরী নাফিজ সরাফতের ঘটনা সুস্পষ্ট এক সতর্কবার্তা—যে কোনো সময় একজন সাধারণ ব্যক্তি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুত উত্থান ঘটাতে পারে, এবং নিয়ম-নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ফাঁক ব্যবহার করে বিশাল সাম্রাজ্য গড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী—বাংলাদেশের কর্পোরেট ও ব্যাংকিং সেক্টরে নিয়ন্ত্রক কাঠামো, দক্ষ তদন্তকারী সংস্থা, স্বচ্ছতা ও বাস্তব বাস্তবায়ন এখনো যথেষ্ট মজবুত নয়।
এক ব্যাংকিং খাতে বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন,
“যতক্ষণ ব্যাংকগুলো নিজস্ব রিস্ক স্কোরিং, এন্ড হাই রিস্ক ক্লায়েন্ট নিয়ন্ত্রণ, ট্রেড-ভিত্তিক লেনদেনে EDD (Enhanced Due Diligence) পালন করবে না—ততক্ষণ এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা রয়েছে।”
চৌধুরী নাফিজ সরাফতের বর্তমান অবস্থান এক দশকমাত্র আগে সামান্য ব্যাংক কর্মকর্তা থেকে একজন হাজার কোটি টাকার মালিকের রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে—রাজনৈতিক আত্মীয়তা, ব্যাংক ও মূলধন-বাজারে নিয়ন্ত্রণ, ভুয়া প্রতিষ্ঠান, শেল কোম্পানি-ফ্রন্ট ক্যাম্পানিজের মাধ্যমে সম্পদ সৃষ্টিতে। তথ্য বলছে—সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ ও স্বার্থ এই প্রক্রিয়ায় হুমকির মুখে।
প্রশ্ন উঠছে—বর্তমান নিয়ন্ত্রক কাঠামো কি যথেষ্ট সক্রিয় ছিল, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা কি ভেঙে পড়েছে?
এখন সময় এসেছে—দুদক, বিজিআইইউ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে শুধু তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; সম্পদ ফেরা, দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ, শুধু একজন ব্যক্তির সাম্রাজ্য নয়, এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও কর্পোরেট শৃঙ্খলার পরীক্ষা—যেখানে কোনও খামতি থাকলে তার ফল শুধু একজনের ক্ষতি হবে না, পুরো দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।