| ব্রাহ্মণবাড়িয়া আফজল খান শিমুল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা–আখাউড়া (০৪) আসনে বিএনপি থেকে সদ্য মনোনয়ন পাওয়া আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। শুক্রবার বিকেলে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ছতুরা গ্রামে পীরে কামেল হযরত মাওলানা আব্দুল খালেক (রহ.) এর মাঝার জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি তার নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করেন।
এরপর তিনি লিফলেট বিতরণ, উঠোন বৈঠক ও গণসংযোগে অংশ নেন। তথ্য বলছে, দুপুরের পর থেকেই ছতুরা, তন্তর বাজার ও ভাটামথা এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পর বিএনপির এমন সক্রিয় উপস্থিতিতে এলাকায় নতুন রাজনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে।
ছতুরা গ্রামে আয়োজিত উঠোন বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ্ব খন্দকার বিল্লাল হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক সচিব ও বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান।
সূত্র জানায়, বৈঠকে মুশফিকুর রহমান দেশব্যাপী জননেতা তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব জনগণের মাঝে প্রচারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এই প্রস্তাবই হচ্ছে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের রূপরেখা।
আলোচনায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হুদা খন্দকার, কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতা ও ২০১৮ সালের মনোনয়নপ্রাপ্ত আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন হাজারীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বৈঠকে নেতারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলকে কোণঠাসা করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে। তারা বলেন, জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে শেষ পর্যন্ত।
প্রশ্ন উঠছে, এই মনোনয়ন ও নতুন কর্মযজ্ঞ কি কসবা–আখাউড়ায় বিএনপির দীর্ঘদিনের ভেতরকার বিভক্তি দূর করতে পারবে? স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মুশফিকুর রহমানের সাংগঠনিক দক্ষতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তৃণমূলকে একত্র করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দিনব্যাপী গণসংযোগ শেষে তিনি ছতুরা গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল ফাইনাল খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ধানের শীষ শুধু প্রতীক নয়, এটি জনগণের বিশ্বাস ও মুক্তির প্রতীক।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই সফর ও মাঠ পর্যায়ের সরব উপস্থিতি আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির কর্মীসমর্থকদের আত্মবিশ্বাস কিছুটা ফিরিয়ে এনেছে।