
স্টাফ রিপোর্টার
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি দেশের ২৩৭টি আসনে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছে। দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তালিকা ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তথ্য বলছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। সূত্র জানায়, বিএনপি এবার তরুণ ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের সমন্বয়ে নতুন একটি মিশ্র নেতৃত্ব কাঠামো দাঁড় করাতে চায়।
খুলনা বিভাগে দলটি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, কারণ এখানে অতীতে বিএনপি বেশ কিছু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফলাফল করেছে। খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।
ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন—
খুলনা-২: নজরুল ইসলাম মঞ্জু
খুলনা-৩: বকুল
খুলনা-৪: আজিজুল বারী হেলাল
খুলনা-৫: আলী আসগর লবি
খুলনা-৬: মনিরুল হাসান বাপ্পি
তবে খুলনা-১ আসনের প্রার্থীর নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় জোটের সমীকরণ এবং সম্ভাব্য একাধিক প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে। একাধিক নাম বিবেচনায় থাকায় এ আসনে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, দলের এই প্রাথমিক তালিকা কতটা পরিবর্তন হবে, এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্থানীয় পর্যায়ের আপত্তি বা জোটগত সমঝোতায় কী ভূমিকা নেবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি এবার খুলনায় তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে রাখছে এবং মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। দলটির মূল লক্ষ্য ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা ও গণসংযোগ জোরদার করা।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি আসনগুলোর প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রার্থিতা মনোনয়নের শেষ তারিখ শিগগিরই শেষ হবে, তাই রাজনৈতিক দলগুলো এখন ব্যস্ত নিজেদের প্রার্থীদের চূড়ান্ত করতে।
সূত্র জানায়, বিএনপি এবার বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও সিলেট অঞ্চলে মাঠ পর্যায়ে নতুন উদ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছে—যার ওপরই নির্ভর করছে তাদের নির্বাচনী ভাগ্য।