
ঢাকা সচিবালয়ের সচিবের হাত আছে আমার মাথার উপর, জাহাঙ্গীর আলম
বাহাদুরপুর ইউনিয়নের নাগরিকত্ব ও ভিজিএফ কেলেঙ্কারি: প্রশাসনিক নীরবতা ও জনঅসন্তোষ
স্টাফ রিপোর্টার
বাহাদুরপুর ইউনিয়নে নাগরিকত্ব বাণিজ্য এবং সরকারি ভিজিএফ (ভর্তি জরুরি খাদ্য) বিতরণে অনিয়ম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠছে, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জাহাঙ্গীর আলম এবং তার সহযোগী জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে থাকা চক্রটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ না আসায় অব্যাহতভাবে সক্রিয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সংবাদ প্রকাশের পরও সচিবের দাপট আগের চেয়েও বেড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদিন বিভিন্ন কাগজপত্র তৈরির নামে চলছে টাকা লেনদেন, যা আগে থেকেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। তথ্য বলছে, সচিব ও তার সহযোগী চক্র স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নাগরিকত্বের অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানাচ্ছেন, যে চক্র আগে নাগরিকত্বের কাজ করত, তারা এখন নীরবে করছে। টাকা দিলেই জন্মনিবন্ধন আর পরিচয়পত্র মিলছে। প্রশাসন মাঠে নামেনি। শুনেছি ঢাকায় ওনার কোন বস আছে
নিরাপত্তা বিশ্লেষক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় নাগরিকত্ব বাণিজ্য প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে। এতে দেশের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। সীমান্ত ইউনিয়নে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারি প্রয়োজন। সে কথায় কথায় ঢাকা সচিব স্যারের নাম বলে!
প্রশ্ন উঠছে— সচিব ও তার সহযোগী চক্রের কার্যক্রম কতটা গভীরভাবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে?
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর আলম এবং জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে একটি নাগরিকত্ব সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। সংবাদ প্রকাশের পরও তারা অফিসে নিয়মিত টাকার লেনদেন চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সচিবের বিরুদ্ধে কথা বললেই কাগজপত্র আটকে দেওয়া হচ্ছে। জাহাঙ্গীর হোসেন নাকি বিভিন্ন স্থানে বলছেন,
সংবাদ করে কিছু হবে না, আমি বড় নেতাদের সঙ্গে আছি। সচিবালয়ের সচিবের হাত আছে আমার মাথার উপর!
তথ্য বলছে, সচিবের বাড়িতে অচেনা মানুষের যাতায়াত অব্যাহত আছে। তিনি দলে আরও কয়েকজনকে যুক্ত করেছেন, যাতে নজরদারি কম থাকে। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসনের নজর এড়াতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যারা টাকা দিতে পারছে না, তারা নাগরিকত্ব ও সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অন্যদিকে টাকা দানকারী অবৈধভাবে সুবিধা পাচ্ছেন।
স্থানীয় নারী এক জন বলেন, আমি দেখেছি, যারা টাকা দিয়েছে তাদের জন্মনিবন্ধন হয়েছে, আমরা টাকার অভাবে কিছু করতে পারিনি।
স্থানীয় যুবক জানিয়েছেন: সংবাদ প্রকাশের পরও প্রশাসন মাঠে নামেনি। সচিবের প্রভাব আগের চেয়ে বেড়েছে। আমরা ভয় পাচ্ছি।
তথ্য বলছে, এই ঘটনা শুধু বাহাদুরপুর নয়, সীমান্তবর্তী এলাকার অন্য ইউনিয়নকেও প্রভাবিত করতে পারে।
আনোয়ার হোসেন লিটনের প্রতিবেদনে জানা যায়, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ভিজিএফের ১২৫০ কেজি সরকারি চাউল জব্দ করা হয়। ৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে সেনাবাহিনী স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীকে আটক করে।
সূত্র জানায়, সরকারি বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল দুর্বল পর্যবেক্ষণে অনিয়মভাবে বিতরণ করা হচ্ছিল। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন,
“সচিব জাহাঙ্গীর আলম রাত ৮টা পর্যন্ত চাল বিতরণ বন্ধ রাখেন। জনগণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
সেনাবাহিনীর অভিযানের পরও প্রশাসনিক পদক্ষেপ ধীর। স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, সচিবের দাপট ও প্রভাব এখনও বজায় আছে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইউপি সচিব স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ, তাই তদন্ত ধীরে চলছে।
নিজ দপ্তরে এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আরও বলেছেন, ইউপি সচিবদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন। জটিল প্রক্রিয়ার কারণে দ্রুত পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
তথ্য বলছে, প্রশাসনের ধীর প্রতিক্রিয়া সচিব ও তার সহযোগী চক্রকে আরও শক্তিশালী করছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. শাহিনুর রহমান মন্তব্য করেছেন, সীমানা সংলগ্ন ইউনিয়ন পর্যায়ে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি না থাকলে, বিদেশি নাগরিকরা ভোটাধিকারসহ সরকারি সুবিধা পর্যন্ত পেতে পারে। এটি দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।”
তথ্য বলছে, প্রশাসন যদি সমন্বিতভাবে স্বচ্ছ তদন্ত ও নজরদারি শুরু না করে, তাহলে এই সিন্ডিকেট প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, সংবাদ প্রকাশের পরও সচিবপন্থী গোষ্ঠী তাদের খোঁজখবর নিয়েছে। ফলে সাংবাদিকরা সীমিতভাবে রিপোর্ট করতে বাধ্য।
স্থানীয় সাংবাদিক জানিয়েছেন, সচিবের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিলে কাগজপত্র আটকে দেওয়া হয়। তাই আমরা সীমিতভাবে রিপোর্ট করছি।
প্রশ্ন উঠছে, সাংবাদিকদের স্বাধীনতার অভাবে কতটা তথ্য সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না?
বাহাদুরপুর ইউনিয়নের নাগরিকত্ব ও ভিজিএফ কেলেঙ্কারি দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, ভোটাধিকার, স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণের আস্থা নিয়ে মহত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
তথ্য বলছে, সচিব ও সহযোগীদের দাপট এবং প্রশাসনিক নীরবতা জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি করছে। অভিযোগ উঠছে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই বাণিজ্য প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে, যা দেশের নিরাপত্তা ও সীমানার জনবসতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি।
সূত্র জানায়, স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থা যদি সমন্বিতভাবে স্বচ্ছ তদন্ত ও নজরদারি শুরু করেন, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।