প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 20, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 21, 2025 ইং
জাতিসংঘের জুলাই গণহত্যার প্রতিবেদনকে ‘ঐতিহাসিক দলিল’ হিসেবে ঘোষণা

বাংলাদেশে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার বিচার চেয়ে করা রিটের রায়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত জাতিসংঘের প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘ঐতিহাসিক দলিল’ হিসেবে ঘোষণা করার পাশাপাশি এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের নির্দেশও দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালত নির্দেশ দেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদনটি ‘জুলাই রেভুলেশন-২০২৪’ নামে গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে মামলাটিকে চলমান মামলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আদালত আরও জানতে চান, কেন জুলাই-আগস্টের গণহত্যা সম্পর্কিত জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা হবে না।
আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ জানান, মামলার ওপর চূড়ান্ত রায় ঘোষণার দিন ছিল ৩ আগস্ট। তবে রাষ্ট্রপক্ষ সময় চাইলে আজ (২১ আগস্ট) রায় ঘোষণা করা হয়। এর আগে, গত বছরের ১৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। রিটে ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখা এবং জুলাই-আগস্টের গণহত্যার দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
হাইকোর্টের প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৫ আগস্ট একটি রুল জারি করা হয়। সেখানে প্রশ্ন তোলা হয়, কেন দেশের নিরীহ মানুষ হত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না। সেই রুলের ওপর ভিত্তি করেই আদালত এদিন চূড়ান্ত রায় দেয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করে। তাদের তথ্যানুসন্ধান দল গুরুতর আহত ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয় এবং পরবর্তীতে রিট আবেদনকারীর সম্পূরক আবেদনে যুক্ত করা হয়।
এই রায়ের মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিষয়টি ইতিহাসের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেল। আদালতের আশা, এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সত্য জানার সুযোগ দেবে এবং গণহত্যার দায়ীদের বিচারের পথে নতুন দিক উন্মোচন করবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে