প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 21, 2026 ইং
রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, প্রশ্ন উঠছে অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে

রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ মো. রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের লিখিত অভিযোগের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তার বড় ভাই ইলেকট্রিশিয়ান কামরুজ্জামান, প্রভাষক মাহমুদ হাসান এবং জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পলাশ সরকারকে সঙ্গে নিয়ে কলেজে একচ্ছত্র দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন। সূত্র জানায়, ৪০টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, মাদারবোর্ডসহ যন্ত্রাংশ সরিয়ে ফেলা, ৪০টি ওয়াটারপ্রুফ রাউটার নষ্ট দেখিয়ে বিক্রি করে নিম্নমানের রাউটার সরবরাহ, পানির পাম্প মেরামতের নামে ভুয়া ভাউচারে অর্থ আত্মসাৎ এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উইভিং, স্পিনিং শেড ও টেস্টিং ল্যাবের কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অ্যাপারেল বিভাগের প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ‘রেজার’ ল্যাপটপ তিন মাস ধরে নিখোঁজ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; অভিযোগ উঠছে, এটি অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ মহলের লোকজন সরিয়ে ফেলেছে। সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বসানো, শিক্ষক-কর্মচারীদের হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। তথ্য বলছে, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের সিলেবাসের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও মো. রঞ্জু মিয়া নিয়মিত ক্লাস নেন না বা নিতে পারেন না। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কৌশলে বদলি বা বিতাড়িত করে নিজের অনুগত অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কলেজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, আগেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী বলেন, অধ্যক্ষ ও তার সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের মুখে। তবে মো. রঞ্জু মিয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাদের স্বার্থের ব্যাঘাত হয়েছে, তারাই অভিযোগ করেছে। তার দাবি, কম্পিউটার সচল রাখতে যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে, রাউটার ছাত্রদের কমিটির সিদ্ধান্তে স্থাপন করা হয়েছে, নিখোঁজ কম্পিউটার বিভাগকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং কাজের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসের জন্যই তিনি তার ভাই কামরুজ্জামানকে কাজ করিয়েছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে