
শুক্রবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী অঞ্চলের সব ধরনের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পৃক্ততা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেন। এর মধ্যে ছিল চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর (বিএমসিইসি) এবং তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা।
সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্পের প্রস্তাব দেয় বেইজিং।
এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, এক দশকেরও বেশি আগে চীন এই করিডরের প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন এতে ভারতকেও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল, তবে ভারত এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তিনি আরও বলেন, এখনো এই প্রকল্পে ভারতসহ অন্যান্য দেশের অংশগ্রহণের সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে।
এদিকে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনায় সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, এই প্রকল্প কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয়।
২০১১ সালে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতার কারণে চুক্তিটি সই হয়নি। এরপর বাংলাদেশ তিস্তা প্রকল্পে চীনের সহযোগিতা চায়।
রণধীর জয়সওয়াল জানান, এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাকে জানানো হয়েছে। তবে সেই অবস্থানের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারতের উন্নয়ন সহযোগিতামূলক প্রকল্পগুলো পারস্পরিকভাবে সম্মত রোডম্যাপ অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং সেগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থের আলোকে বাংলাদেশ-সংক্রান্ত সব অগ্রগতি মূল্যায়ন অব্যাহত রাখবে ভারত।