
সংসদ ভবন, ২৭ জুন ২০২৬ (বিবিসি বাংলা ধাঁচে) — প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান-এর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।
প্রস্তাবটি অধিবেশনের শুরুতে উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
স্পিকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। তাঁর মতে, এই সফরের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সফরের ফলে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যাওয়া ও ফিরে আসার সময় জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার প্রচলিত রীতি পরিহার করে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই সফর বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি—পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের বাস্তব প্রতিফলন। তাঁর মতে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে শ্রমবাজার, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং চীনের সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করবে। তিনি মালয়েশিয়া ও চীনকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করা উচিত এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংসদের ভূমিকা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।