প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 18, 2026 ইং
নগর উন্নয়নে এসটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক বাস্তবায়নে জোর দিল রাজউক
নগর উন্নয়নে এসটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক বাস্তবায়নে জোর দিল রাজউক
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন ও জলাশয় দূষণ নিয়ন্ত্রণে পয়ঃনিষ্কাশন ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ লক্ষ্যে “নগর উন্নয়নে পয়ঃনিষ্কাশন, পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও Sewage Treatment Plant (STP) বাস্তবায়ন” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে রাজউকের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হক। এছাড়া গুলশান, বারিধারা ও বনানী সোসাইটির প্রতিনিধিসহ রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে ১০টি প্রতিষ্ঠান Sewage Treatment Plant (STP) স্থাপনের বিভিন্ন প্রযুক্তি, কার্যকারিতা, প্রকারভেদ এবং সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সিগমা গ্রুপ অব কোম্পানিজ, এলিপস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন, বায়োটেক ইনোভেশনস, বাংলাদেশ গ্রিন বিল্ডিং একাডেমি, ডাইকি অ্যাক্সিস বাংলাদেশ, অ্যাকুমেন ইঞ্জিনিয়ারিং, সেন্টার ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (সিইটিএ), রিসার্চ ইনোভেশন কমার্শিয়ালাইজেশন, ক্লাইমা এনার্জি ইপিসি এবং পিভট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ভবন মালিকরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসটিপি স্থাপন করতে পারবেন। ভবিষ্যতে ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে এসটিপির নকশা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি জানান, যেসব ভবনের অনুমোদিত নকশায় সেপটিক ট্যাংক বা সোকওয়েল রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একইসঙ্গে পাঁচ কাঠা বা তদূর্ধ্ব আয়তনের প্লটের ক্ষেত্রে এসটিপি স্থাপন আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।
তিনি আরও বলেন, গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকার লেকসমূহের দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। লেকে টয়লেটজনিত বর্জ্য প্রবাহ বন্ধ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় এসটিপি স্থাপনকে কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সেমিনারে লেকভিত্তিক আঞ্চলিক (রিজিওনাল) এসটিপি স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ধরনের প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে বিশেষ মেলার আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানায় রাজউক।
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাজউক চেয়ারম্যান এবং টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে