
বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এস এম আশরাফুজ্জামানের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ ভাগাভাগি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠছে। তথ্য বলছে, বিভিন্ন মহলে তাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ প্রচলিত থাকলেও তিনি এখনো প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দেশ স্বৈরশাসক মুক্ত হলেও বিআইডব্লিউটিএ’তে দুর্নীতিবাজ এএসএম আশরাফুজ্জামান সস্ত্রীক গোটা প্রতিষ্ঠানটিকে দূর্নীতির সোনার খনিতে পরিণত করে অভিনব কায়দায় তাদের হরিলুট চালিয়ে যাচ্ছেন দাবি । কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণ হতে শুরু করে সরকারী অর্থ লোপাটসহ এমন কোন দূর্নীতি নেই যা তিনি করেননি মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি বিদেশ গমন করবেন।
সূত্র জানায়, এক সময় এস এম আশরাফুজ্জামানের অত্যন্ত ঘনিষ্ট এবং পরে দুরত্ব সৃষ্টি হওয়া এক ভুক্তভোগীসুত্র জানিয়েছে, সম্পদ গোপন ও ভুয়া তথ্য প্রদান করছেন রাষ্ট্রকে সম্পদের বিবরণে মন গড়া ও ভুল তথ্য দিয়েছেন এবং প্রকৃত সম্পদের বিবরণ দেন নাই। পরিবারের সদস্য দের নামে – অপরাজিতা ৩২/বি/১, ৩২/বি/ই মায়াকানন ফ্লাট, বাসাবো ৭ তলা বাড়ি, আলিশান প্রাসাদ ফ্লাট, ৩৩/বি এবং ৩৩/সি বেনামে আহমেদ বাগে কয়েকটি ফ্লাট। রাজধানীর শান্তি নগরে আলিশান ফ্লাট কিনে বসবাস করছেন। বেনামে সম্পদ কিনেছেন ঢাকা ও এর আশেপাশে বিপুল সম্পত্তি, মোহাম্মদপুর, বসিলা, ধানমন্ডি, ফতুল্লা, কেরানীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, পূর্বাচল, কালীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, প্লট কিনেছেন। বাড়ি করেছেন বাসাবো, সবুজবাগ, মুগদামানডায়। তার জন্মস্থান কুষ্টিয়াতেও পরিবারের নামে বিপুল পরিমান সম্পত্তি কিনেছেন বলে দাবি সূত্রের ।
অভিযোগ কারির দাবি অনুযায়ী, এ এস এম আশরাফুজ্জামানের রয়েছে একটি শক্তিশালী সরকার বিরধী ঠিকাদার সিন্ডিকেট। আওয়ামী আমলে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অবৈধ ভাবে নিয়োগ পাওয়া এ এস এম আশরাফুজ্জামান মনে প্রাণে বর্তমান সরকার কে ঘৃণা করে। আওয়ামী বিরোধী লোক দেখলেই তার গাঁ জ্বলে। পক্ষান্তরে নিজেকে জামাত, বি এন পি র ঘরানার দাবি করে। জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাওয়া এ এস এম আশরাফুজ্জামান এখন জামাত, বি এন পি সাজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
একাধিক তথ্য সূত্র বলছে, বিআইডব্লিউটিএ তে বি এন পি, জামাত বিরোধী প্রকৌশলীদের নিয়ে যে সিন্ডিকেট এ এস এম আশরাফুজ্জামান তার অন্যতম বলে জানা গেছে। তার রয়েছে নিজস্ব ক্যাশিয়ার যার মাধ্যমে সে বড় বড় টেন্ডার গুলো নেগসিয়েট করায়। নিদ্রিষট কমিশন ছাড়া তিনি কোন কাজ করেন না। অনুসরণ করে বের হয়ে এসেছে তার থলের ভেতর লুকিয়ে থাকা ভংয়কর হিংস্র কলো রংয়ের বিড়াল।
আরো জানা গেছে এ এস এম আশরাফুজ্জামান অফিসের বাইরে তার ঘুষ, কমিশন বানিজ্য চালিয়ে যেতে খুব স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন, একাধিক সূত্র তা নিশ্চিত করেছে। এ এস এম আশরাফুজ্জামান এর ঘুষের, অনিয়মের, দুর্নীতির ফিরিস্তি অনেক লম্বা ও অত্যন্ত ঘৃণার। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি, ও এপিএসদের ম্যানেজ করে হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারি অর্থ। তিনি মূলত তার সিন্ডিকেটের ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করিয়ে থাকেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিরোধী ঠিকাদারা তার অত্যন্ত আস্থাভাজন।
সূত্রমতে, সাবেক নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও তার এপিএস আ ন ম আহামুদুল হক বাসারের অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন তিনি। এএস এম আশরাফুজ্জামান এর চেয়ারে বসতো আ ন ম আহামুদুল হক বাসার – বসে ভিন্নধর্মী আসর বসাতো। এভাবে একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে বিআইডব্লিউটিএ এর এই দুর্নীতিবাজ কমকর্তা।
প্রশ্ন উঠছে, ৫ ই আগষ্ট স্বৈরশাসকের পতন হলেও দুর্নীতিবাজ এই এ এস এম আশরাফুজ্জামান চাকরি বহাল আছে। তার তো জেলে থাকার কথা কারণ সে স্বৈরশাসকের সহযোগী। এএস এম আশ্রাফুরজামান একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য। বিআইডব্লিউটিএ তে এতটাই ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছিলেন যে ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তার কক্ষে সারাদিন সিন্ডিকেটের সদস্যরা বসে থাকে এবং সে তাদের মাধ্যমে সাধারণ ঠিকাদারদের বিভিন্ন সময় হুমকি ধমকি, এমকি অপমান অপদস্ত সহ সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দেয়। এতে রাষ্ট্রের যেমন ক্ষতি হয় তেমনি সাধারণ মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভয় কেউ মুখ খুলতে রাজি না ।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ এস এম আশরাফুজ্জামান অবৈধ অর্থ ও সম্পদ এতটাই বেশি অর্জন করেছেন যে কোন আইন ও নীতিমালা ইসপশ্য করতে পারে না। দুর্নীতি দমন কমিশন কে পর্যন্ত কেয়ার করে না। তার কথা একটাই টাকা থাকলে সব ম্যানেজ করা যায়। হাজার হাজার কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে এ এস এম আশরাফুজ্জামান সাপ লুডু খেলছে। এখনোও কমিশনের বিনিময়ে তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাজ দিতে তৎপর।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, Development of Jetties and Infrastructure at Mirsarai & Sandwip at Chattogram, Subrang and Jaliar Dwip at Teknaf and Sonadia Dwip at Cox’s Bazar প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (PD) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এ.এস.এম আশরাফুজ্জামান।
বিআইডব্লিউটিএ-এর এই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ, টেকনাফের সাবরাং-জালিয়ার দ্বীপ এবং কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় ৫টি আধুনিক জেটি ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ করা ।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে আশরাফুজ্জামান এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও কোন উত্তর পাওয়া যায় নি।
কিসের ক্ষমতায় এবং কার অনুকূলে তিনি এতটা ক্ষমতাধর—এ প্রশ্নের খবর খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে পিলে চমকানো তথ্য। একাধিক তথ্য বলছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নয়ছয়ের সুযোগ বেশি তাই তিনি এ সুযোগ টা হাতছাড়া ভুলেও করেননি। সরকারের কোষাগারে বাজেট না থাকলেও তিনি টেন্ডার আহ্বান করতে একটুকুও দিধা বোধ করেনি। হাজার হাজার/শত শত কোটি টাকার টেন্ডার দিয়েছেন। তিনি এতবেশি ধুরনদর চালাক যে নিজস্ব বা যে বেশি কমিশন দেয় তাহাকেই রেইট কোড দেয় কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে। একদিকে রাষ্ট্র হারাচ্ছে তার অর্থ অন্যদিকে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ।
সংশ্লিষ্ট মহল ও ভুক্তভোগীদের মতে, এই এ এস এম আশরাফুজ্জামানকে আইনের আওতায় এনে তদন্তপূর্বক কঠোর শাস্তি সহ তার লুটপাটকৃত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং অর্থ বাজেয়াপ্ত সময়ের দাবী।