
বাংলাদেশে গবেষণার একটি স্বতন্ত্র ধারা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আরও বেশি আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বুধবার ঢাকায় বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) ‘মিঠাপানির মাছের মড়ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন’ প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালায় তিনি বলেন, গবেষকদের এমন কাজ করতে হবে যা বৈশ্বিক গবেষণা থেকে আলাদা, নতুনত্বপূর্ণ এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে সক্ষম।
মন্ত্রী বলেন, দেশের মৎস্যখাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরকার বিশেষভাবে সম্মানিত করবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশে বহু গবেষণা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এখনও গবেষণার একটি সুস্পষ্ট ও নিজস্ব ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গবেষণা কার্যক্রমের দৃশ্যমান ফলাফল জনগণের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মাছের স্বাস্থ্য রক্ষায় পানির গুণগত মানকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মাছ চাষের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে রোগবালাই অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ জন্য বিজ্ঞানী ও মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
একই অনুষ্ঠানে দেশের প্রাকৃতিক মাছের বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে গবেষণা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মিঠাপানির মাছকে রোগমুক্ত ও টেকসইভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের উদ্যোগ সময়োপযোগী।
তিনি সতর্ক করে বলেন, মাছ চাষে অযৌক্তিক ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি গবাদিপশুর জন্য ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিবায়োটিকও মাছের খামারে প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের করের অর্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, তাই রাষ্ট্রের প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উচিত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ড. অনুরাধা ভদ্র। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
‘মিঠাপানির মাছের মড়ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাছের রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক সমাধান তৈরির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।