
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অতীতে রাষ্ট্র গণমাধ্যমের প্রতি নিয়ন্ত্রণমূলক মনোভাব দেখালেও বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত সমস্যার সমাধানে ‘সহযোগী অংশীদার’ হিসেবে কাজ করতে চায়।
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্রের কালো দিবস কেবল অতীতের একটি ঘটনার স্মরণ নয়; বর্তমান সময়ের গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ নিয়েও ভাবার সুযোগ। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে তথ্যপ্রবাহের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, যা নতুন ধরনের সংকট ও সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “শুধু ৫০ বছর আগের ঘটনাকে স্মরণ করলেই হবে না, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতা বুঝে তার উপযোগী সমাধান খুঁজতে হবে।”
১৯৭৫ সালের ১৬ জুনের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, সে সময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছিল। তার ভাষায়, একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে গণমাধ্যমের কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল।
এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব সহজেই তথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি ও প্রচার করা সম্ভব হচ্ছে। এ কারণে নতুন বাস্তবতা মোকাবিলায় নীতিগত ও কাঠামোগত প্রস্তুতি প্রয়োজন।
নাগরিক সাংবাদিকতার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী এর বিস্তার ঘটেছে এবং একে পুরোপুরি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বরং উপযুক্ত নীতিমালার মাধ্যমে এটিকে কাঠামোবদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়েও কথা বলেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের পাশাপাশি গণমাধ্যম মালিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার।
সভায় তিনি জানান, সরকার গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং শিগগিরই আধা-বিচারিক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তার মতে, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম রাষ্ট্রকে নিয়মিত প্রশ্নের মুখোমুখি রাখতে পারে, যা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়ক।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সংগঠনের নেতা, সম্পাদক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।