প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 6, 2026 ইং
পিবিআই কর্তৃক তুরাগ নদীতে অজ্ঞাতনামা বস্তাবন্দী লাশের রহস্য উদঘাটন

অজ্ঞাতনামা বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত ব্যুরো (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। তদন্তে হানিট্র্যাপ ও মুক্তিপণ চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
তথ্য বলছে, গত ৩০ মে ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে মো. লোকমান সরদার (৩৮) কুড়িল এলাকার বাসা থেকে প্রাইভেট কার চালানোর উদ্দেশ্যে বের হন। দীর্ঘ সময় পরও তিনি বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, তবে তাকে পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, পরবর্তীতে বরিশালের গৌরনদী থানা পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে হত্যা করে তুরাগ নদীতে ফেলে দিয়েছে। পরে দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়।
সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভিকটিমের শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে—কাঁধ থেকে আঙুল পর্যন্ত চামড়া ছোলানো, বাম হাত ও পায়ের হাড় ভাঙা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে তদন্ত সূত্রে জানা যায়।
পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রী ফারজানা আক্তার বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় রুজু হয়।
মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ ও সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্ত গ্রহণ করে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই জাকারিয়া আলমকে।
তথ্য বলছে, তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, আসামি সালমানের কথিত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ওরফে আর্নিবা জারা ভিকটিম লোকমানকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন পাখির বাজার এলাকার হোন্ডা রোডে ডেকে নেন। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে মারধর করা হয় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১০ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে তদন্ত সূত্রে জানা যায়।
সূত্র জানায়, এরপর তাকে হাত-পা বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। একই সময় ভিকটিমের প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-১৬৬৮) নিয়ে আসামিরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পিবিআই জানায়, পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রধান আসামিসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে গাজীপুরের গাছা থানা এলাকা থেকে ভিকটিমের লুণ্ঠিত প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়।
তথ্য বলছে, গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখ নম্বরপ্লেটবিহীন অবস্থায় গাড়িটি উদ্ধার করা হয় এবং ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর যাচাই করে সেটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি এসএম সালমান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য দেন।
পিবিআই বলছে, এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে