
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন ১/২-এর আওতায় সাভারের সি,আর,পি, ডগরমোড়া এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ৬টি নির্মাণাধীন ভবনের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ ও সংযোগ বিচ্ছিন্নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য জানিয়েছে রাজউক।
২০ মে ২০২৬ (বুধবার) পরিচালিত এ অভিযানে মোট ৬টি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং ১০টি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য বলছে, অভিযানে অনুমোদনবিহীন নির্মাণকাজ, রাজউকের অনুমোদিত নকশা প্রদর্শনে ব্যর্থতা এবং নিয়মবহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে—রাজধানীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ কতটা বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে এবং এসব নির্মাণকাজে তদারকি কতটা কার্যকর।
রাজউক সূত্র জানায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সবুজ হাসানের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। এ সময় অথরাইজড অফিসার মো. মেহেদী হাসান খান, সহকারী অথরাইজড অফিসার, প্রধান ইমারত পরিদর্শক, ইমারত পরিদর্শকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালিত নির্মাণাধীন ভবনের সংখ্যা ছিল ৬টি। একই সঙ্গে ৬টি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং জব্দ করা হয় ১০টি বৈদ্যুতিক মিটার।
অভিযানের তালিকায় প্রথমে রয়েছে রফিকুল ইসলামের নাম। তার ভবনের বিদ্যমান বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি ১টি বৈদ্যুতিক মিটার পল্লী বিদ্যুতের নিকট হস্তান্তর করা হয় এবং ভবনের আংশিক অংশ ভেঙে অপসারণ করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযানে আবদুল্লা আল মামুনের ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তথ্য বলছে, মোবাইল কোর্ট চলাকালে তিনি রাজউক অনুমোদিত নকশা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন। পরে ভবনের বিদ্যমান ৪টি বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং আংশিক অংশ ভেঙে অপসারণ করা হয়।
অজ্ঞাত মালিকানাধীন আরেকটি ভবনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, ভবনটির মালিক রাজউকের অনুমোদিত নকশা প্রদর্শন করতে পারেননি। এরপর ভবনের বিদ্যমান বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
মো. আউয়ালের ভবনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তিনি রাজউক অনুমোদিত নকশা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ভবনের আংশিক অংশ অপসারণ এবং বিদ্যমান বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এ ছাড়া মামুনুর রশিদের ভবনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় অনুমোদিত নকশা প্রদর্শন করতে না পারার অভিযোগ পাওয়া যায়। তার ভবনের ২টি বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজউক।
অভিযানের শেষ পর্যায়ে সালেহ আহম্মেদের ভবনের বিদ্যমান বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। একই সঙ্গে ১টি বৈদ্যুতিক মিটার পল্লী বিদ্যুতের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
তথ্য বলছে, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, অনুমোদিত নকশা ছাড়া ভবন নির্মাণ নগর ব্যবস্থাপনা, অগ্নি নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হলেও অবৈধ নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে—নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণের পেছনে কোনো প্রভাবশালী চক্র বা প্রশাসনিক দুর্বলতা কাজ করছে কি না।
রাজউকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রটোকল) মো. জোবায়দুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইন লঙ্ঘন করে নির্মাণকাজ পরিচালনার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।