প্রিন্ট এর তারিখঃ May 9, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 9, 2026 ইং
কক্সবাজারে মানবপাচারবিরোধী কর্মশালা, সচেতনতায় জোর ইউএনও’র

মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে ফিরে আসা মানুষের অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে কার্যকর সচেতনতামূলক হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন কক্সবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার। তিনি বলেছেন, ভুক্তভোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সমাজের সামনে তুলে ধরতে পারলে সাধারণ মানুষ আরও সচেতন হবে এবং মানবপাচারের ঝুঁকি কমবে।
বুধবার সকালে কক্সবাজার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, “একজন ভুক্তভোগীর কষ্টের গল্প যখন সমাজের সামনে আসে, তখন তা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়ায়। দালালের প্রলোভনে পড়ে মানুষ যেন ঝুঁকিপূর্ণ পথে না যায়, সে জন্য তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, মানবপাচার এখন বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তার ভাষায়, মাঠপর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বিদেশে ভালো চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে দালালচক্র সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। বিশেষ করে তরুণদের টার্গেট করে নানা ধরনের প্রলোভন দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো গেলে মানবপাচারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মত দেন তারা।
ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. আবুল কাহ্হারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহিদুর রহমান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী এবং কক্সবাজার মডেল থানার পরিদর্শক মো. আসাদুর রহমান।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সেন্টার ম্যানেজার মো. আজিমুল হকের সঞ্চালনায় কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেপুটি ম্যানেজার মো. শিহাবুল হোসেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, গ্রাম পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক এবং মানবপাচারের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্যে বিদেশে নেওয়ার নামে দালালদের প্রতারণা, নির্যাতন এবং নানা দুর্ভোগের চিত্র উঠে আসে।
আয়োজকদের তথ্য বলছে, ২০০৬ সাল থেকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ ও মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করে আসছে। কক্সবাজারেও নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা পরিচালনা করা হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে