প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 27, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 27, 2026 ইং
বাউফলে জেলেদের খাদ্য সহায়তার চালে অনিয়মের অভিযোগ, জনপ্রতি ৫ কেজি কম বিতরণ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জেলেদের দাবি, দুই মাসে ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের দেওয়া হচ্ছে ৭৫ কেজি করে।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৫৫টি জেলে পরিবারের জন্য ১১৬ টনের বেশি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মৃধা ওই চাল উত্তোলন করে বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি ছাড়াই সরকারি ছুটির দিনে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে নান্নু মিয়া বলেন, “দুই মাসে ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা, কিন্তু আমাদের ৭৫ কেজি দেওয়া হয়েছে। বাকি চাল অন্যদের দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।”
৪ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য মো. জসিম হোসেনের বিরুদ্ধে পরিবহন খরচের নামে জেলেদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রকৃত জেলেদের পরিবর্তে আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে চাল বিতরণের অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগী জেলে হেলাল হাওলাদার বলেন, “জসিম মেম্বার প্রকৃত জেলেদের নাম ব্যবহার করে নিজের আত্মীয়দের মধ্যে চাল দিয়েছেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য জসিম হোসেন বলেন, “যে চাল কম দেওয়া হয়েছে, তা অন্য জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।”
এদিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অনুপস্থিত থাকায় সংরক্ষিত নারী সদস্য আছমা বেগমের স্বামী রিপন খান চাল বিতরণ করেন। সেখানেও জনপ্রতি ৭৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জনপ্রতি ৫ কেজি করে কম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে মোট ৭ দশমিক ২৭৫ টন চাল আত্মসাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মৃধা বলেন, “জেলের সংখ্যা বরাদ্দের তুলনায় বেশি হওয়ায় সবার মধ্যে বণ্টনের জন্য ৫ কেজি করে কম দেওয়া হয়েছে।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার বলেন, “সাপ্তাহিক ছুটির কারণে উপস্থিত থাকতে পারিনি। অন্যদিন বিতরণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি।”
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, “সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সম্পূর্ণ চাল বিতরণ করতে হবে। কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে