প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 19, 2026 ইং
বটিয়াঘাটায় বিআরডিবি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) অফিসের এক প্রকল্প পরিচালক ও এক মাঠকর্মীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সদস্য ভর্তি নিয়ে অনিয়ম, ঋণের নামে প্রতারণা এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা বিআরডিবি অফিসের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মোঃ সুফিয়ান ও মাঠকর্মী শারমিন আক্তার দীর্ঘদিন ধরে সদস্য ভর্তি ও ঋণ প্রদানের নামে বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, ঋণের আশ্বাস দিয়ে ঘুরানো এবং সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে বিআরডিবির সদস্যদের পাসবই ব্যবহার করে ‘সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি’ নামে সদস্য ভর্তি করা হয়। পরে বিআরডিবি থেকে ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সদস্যদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।
সদস্য তৃপ্তি পাল, অমিতা মণ্ডল ও মাধুরী মণ্ডলসহ একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে তারা সদস্য হলেও ঋণ পাননি। বরং বারবার সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, ভর্তি ফি ও ঋণ প্রক্রিয়ার নামে অর্থ নেওয়া হলেও পরে কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে শারমিন আক্তার বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি দাবি করেন, সদস্য ভর্তি সংক্রান্ত সব কাজ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে করা হয়।
অন্যদিকে মোঃ সুফিয়ান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা সুলতানা নাছরীন জানান, শারমিন আক্তার ও সুফিয়ানের বিরুদ্ধে জেলা ও কেন্দ্রীয় দপ্তরে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, শারমিন সুলতানা, শিফালী মণ্ডল, সরবানী গোলদার, সুলেখা বৈরাগী, এআরডি আবু সুফিয়ান ও তার স্ত্রী কবরী জাহানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলার প্রস্তুতিও চলছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেতন বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, সুফিয়ান ও শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সার্টিফিকেট মামলার প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে