
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) অফিসের এক প্রকল্প পরিচালক ও এক মাঠকর্মীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অর্থ লুটপাট, সদস্য ভর্তি নিয়ে অনিয়ম, ঋণের নামে অর্থ আদায় এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, বটিয়াঘাটা বিআরডিবি অফিসের প্রকল্প পরিচালক মো. সুফিয়ান এবং মাঠকর্মী শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সমবায় সমিতিতে সদস্য ভর্তি, ঋণ দেওয়ার আশ্বাস এবং সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেওয়ার নামে সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, শুধু মাঠ পর্যায়েই নয়, অফিসের অভ্যন্তরেও তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। তাদের দাবি, মাঠকর্মী শারমিন আক্তার আগে ডুমুরিয়া উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বটিয়াঘাটায় বদলি করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মো. সুফিয়ান বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় গিয়ে বিআরডিবি সদস্যদের পাস বই ব্যবহার করে ‘সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি’ নামে সদস্য ভর্তি করান। পরে বিআরডিবি থেকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে সদস্যদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়।
সদস্য তৃপ্তি পাল ও অমিতা মণ্ডলসহ একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, তারা ২০২৩ সালে বিআরডিবি সমিতিতে সদস্য হন। কিন্তু ঋণের জন্য আবেদন করার পরও নানা অজুহাতে তাদের ঘোরানো হচ্ছে। ভুক্তভোগী সদস্য মাধুরী মণ্ডল অভিযোগ করেন, মাঠকর্মী শারমিন আক্তার তার কাছ থেকে ভর্তি বাবদ টাকা নিয়েছেন এবং ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে পরে ঋণ চাইলে তাকে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে।
সদস্যদের অভিযোগ, সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে নানা তালবাহানা করা হচ্ছে এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ঋণও দেওয়া হচ্ছে না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাঠকর্মী শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। সদস্য ভর্তি সংক্রান্ত সব বিষয়ে অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হয় এবং অনুমতি ছাড়া কোনো সদস্য ভর্তি করা সম্ভব নয়।
সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. সুফিয়ানও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা সুলতানা নাছরীন জানিয়েছেন, শারমিন আক্তার ও মো. সুফিয়ানের বিরুদ্ধে জেলা ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, মাঠ পর্যায় থেকে তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ আসছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
সুলতানা নাছরীন আরও জানান, শারমিন সুলতানা, শিফালী মণ্ডল, সরবানী গোলদার, সুলেখা বৈরাগী, এআরডি আবু সুফিয়ান এবং তার স্ত্রী কবরী জাহানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলার প্রস্তুতিও চলছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বেতন বন্ধ রয়েছে বলে তিনি জানান।
বিআরডিবি খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, মো. সুফিয়ান ও শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সার্টিফিকেট মামলার প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।