প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 11, 2026 ইং
কুড়িগ্রামে স্কুল ভবন ‘মরণ ফাঁদ’, সাত মাসে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু

কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলা ও তিনতলা ভবন শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রিলবিহীন বারান্দা ও ছাদে অবাধ চলাচলের কারণে গত সাত মাসে ভবন থেকে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ ৬ এপ্রিল চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কে ডি ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিফিন বিরতির সময় খেলারত অবস্থায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার হাসি (১১) দোতলার বারান্দা থেকে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নাগেশ্বরী উপজেলার পশ্চিম নাগেশ্বরী বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদ থেকে পড়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। শিক্ষকদের দাবি, শিশুটি কীভাবে ছাদে উঠেছিল তা বোঝার আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, জেলার নয়টি উপজেলায় একই নকশায় নির্মিত ৩০৯টি স্কুল ভবন রয়েছে, যা বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব ভবনের নকশা অনুমোদন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ভবনগুলোর বারান্দায় আংশিক রেলিং থাকলেও গ্রিল নেই। অনেক ক্ষেত্রে বারান্দা থেকেই ছাদে ওঠার পথ খোলা থাকায় শিশুরা সহজেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে টিফিন বিরতি বা ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নিহত শিক্ষার্থী হাসির মা মরিয়ম বেগম বলেন, “বারান্দায় গ্রিল থাকলে আমার মেয়ের মৃত্যু হতো না। আর কোনো মা যেন সন্তান না হারায়, সেই ব্যবস্থা করা উচিত।”
একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আলিমুল রাজি বলেন, বর্তমান নকশায় নির্মিত ভবনগুলোতে গ্রিল না থাকায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। “গ্রিল থাকলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেত,” বলেন তিনি।
নাগেশ্বরী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা দোতলার রেলিং ধরে খেলছে এবং ছাদে অবাধে যাতায়াত করছে। কিছু স্কুল নিজস্ব অর্থায়নে নিচতলায় আংশিক গ্রিল স্থাপন করলেও ওপরের তলাগুলো এখনো উন্মুক্ত।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, ভবনের নকশায় ত্রুটি রয়েছে এবং এটি শিশুদের জন্য নিরাপদ নয়। কিছু বিদ্যালয়ে নিজস্ব অর্থে গ্রিল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস হোসেন বিশ্বাস বলেন, “নকশা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর অনুমোদন করেছে। এলজিইডি শুধু বাস্তবায়ন করেছে। স্থানীয়ভাবে নকশা পরিবর্তনের সুযোগ নেই।”
ঘটনাগুলোর পর জেলার অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে এবং অনেকেই শিশুদের স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন। শিক্ষক ও অভিভাবকরা দ্রুত সব ভবনে গ্রিল স্থাপনসহ নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ উদয়ের পথে